ডিমলায় এইচএসসি ব্যবহারিকে ‘নম্বরের ভয়’, টাকা আদায়ের অভিযোগ

ডিমলায় এইচএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বরের ভয় দেখিয়ে পরীক্ষার্থীদের থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Dimla
ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র
ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর ডিমলায় এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়ম ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষায় কম নম্বর দেয়া বা ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-এর বাইরে নগদ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গত শুক্রবার মনোবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে একই বিষয়ের ব্যবহারিক খাতা ও শিটের নামে জনতা ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৩০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

ওইদিন ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মনোবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের প্রায় ২০৮ জন এবং জনতা ডিগ্রি কলেজের ৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা এবং জনতা ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৩০ টাকা নেয়া হয়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে দেখা যায়, ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহকারী মো: মজিনুর রহমান পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। মোছা. মৌসুমী আক্তার, আরফিন আক্তারসহ একাধিক পরীক্ষার্থীও ৫০ টাকা করে দেয়ার কথা নিশ্চিত করেন।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর দেয়ার বিষয়টি সামনে রেখে তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হয়। টাকা না দিলে নম্বর কম দেয়া কিংবা পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও টাকা দিতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো: মজিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নেইনি। ভালোভাবে জিজ্ঞেস করেন কিসের টাকা দিছে।’ পরে তিনি কেন্দ্র ফি দেয়ার কথা বলে দ্রুত পরীক্ষাকেন্দ্র ত্যাগ করেন।

জনতা ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার তাদের কলেজে মনোবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৩৩০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, দু’টি শিট দেয়া হয় এবং ওই শিট দেখে তারা পরীক্ষা দেন। টাকা না দিলে কী হতো, তা তারা জানেন না। তবে শিক্ষক তাদের বলেছেন, ‘তোমরা টাকা দাও, নম্বর দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।’

অভিযোগের বিষয়ে জনতা ডিগ্রি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিষয়ের প্রদর্শক সামিউল আলম লেনিন বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের ব্যবহারিক খাতা ৪৫ টাকা করে ৯০ টাকা এবং শিট ফটোকপি বাবদ ৩০ টাকা নিয়েছি।’ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের তার সামনে হাজির করার কথা বলেন।

এ বিষয়ে ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: শহীদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইলিগ্যাল (অবৈধ)। যে ভুলটা হয়ে গেছে, তা যেন আগামীতে আর না হয় এ জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই। কলেজের ভাবমূর্তির বিষয় আছে, এখানে আমারো দায়িত্ব রয়েছে। যদিও আমার কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু বাড়িতে পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করছিলাম। এ কারণে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারিনি।’

ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ট্রং সিদ্ধান্ত হলো, কোনো শিক্ষার্থী এক টাকা কাউকে দেবে না, কেউ নেবেও না।’ তার দাবি, ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেউ প্রতিনিধিত্ব করার এখতিয়ার রাখে না।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা কেন নিল এবং ৫০ টাকা করে কেন নেয়া হলো- এ বিষয়ে প্রিন্সিপালকে ডেকে বিস্তারিত জানব। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’