শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

বাগেরহাটের শরণখোলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যা মামলায় খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামে তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

Location :

Bagerhat
নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম
নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম |নয়া দিগন্ত

বাগেরহাটের শরণখোলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যা মামলায় খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামে তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলের দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত এ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় আরিফুল ইসলাম মাসুম হামলার শিকার হন। ওই রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আরো এক সমর্থক আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরে সোমবার দুপুরে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ১৬ জনের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম খুড়িয়াখালী গ্রামের বিএনপি নেতা মরহুম আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেয়ার তিনি জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।

উপজেলা বিএনপি ও নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি, ঘটনার সময় মাসুম তার শ্বশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, ‘বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর ও বিএনপি অফিসে আগুন দিয়েছে। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষীপ্ত হয়। এ ঘটনার জেরে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

অপরদিকে সাইথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদলের সাবেক নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার সাথে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: নাঈম ইসলাম বলেন, ‘আরিফুল ইসলাম মাসুম নামের এক ব্যক্তিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরে তার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরে তাকে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তীতে কার্ডিয়াক অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ১৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

ওসি শামিনুল হক আরো বলেন, ‘নির্বাচনের সময় একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত মাসুম তার মোবাইলে ভিডিও করেন। সেই ভিডিওর বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ের তার ওপর হামলা হয়। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

এদিকে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরণখোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক দাবি করে বিএনপির এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ করেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, ‘একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে। ওই ঘটনায় শরণখোলা উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নূন্যতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ঘটনায় যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাদের কেউ জামায়াত বা শিবিরের সাথে সম্পর্কিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি পারিবারিক সমস্যার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করি।’