রংপুরে এনসিপি নেতা আখতারের ৪৯ দফা ইশতেহার

তিস্তা যেভাবে সঙ্কট তৈরি করেছে সেখানেই সম্ভাবনা তৈরির মাধ্যমেই এই অঞ্চলের হারানো সভ্যতা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
কাউনিয়ার তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন
কাউনিয়ার তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন |নয়া দিগন্ত

তিস্তা যেভাবে সঙ্কট তৈরি করেছে সেখানেই সম্ভাবনা তৈরির মাধ্যমেই এই অঞ্চলের হারানো সভ্যতা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটায় কাউনিয়ার তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের সময়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রংপুর মহানগর আহ্বায়ক আবু হাসান চঞ্চল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন, জেলা যুগ্ম আহবায়ক আবু রেজা, কাউনিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুস সালাম, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, কাউনিয়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

নদী পাড়ে ইশতেহার ঘোষণার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আখতার বলেন, "বিশ্বের সভ্যতার ইতিহাস নদীকেন্দ্রিক, কিন্তু কালের পরিক্রমায় নদী সঙ্কট তৈরি করেছে। আমরা নদীকে ঘিরেই সম্ভাবনা তৈরি করতে চাই, সে কারণেই তিস্তা পারে ইশতেহার ঘোষণা করছি। উত্তরের লাইফ লাইন তিস্তাকে সম্ভাবনার মাধ্যমেই উন্নয়নের দুয়ার খুলে দেয়া হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়নের সূচনা করতে চাই।

তিনি সরকারি বরাদ্দের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রতিটি ইউনিয়নের সামনে বরাদ্দপত্র উন্মুক্তকরণ, নরমাল ডেলিভারি সেন্টার স্থাপন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় কুইক রেসপন্স টিম, কর্মসংস্থান তৈরিতে ইপিজেড, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিসহ দশটি সেক্টরে ৪৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ দিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হবে।

ইশতেহারে আখতার বলেন, বিদ্যমান রেললাইন সংস্কার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ এবং আন্তঃনগর ট্রেন বৃদ্ধি, প্রত্যেকটি রাস্তায় চলাচল নিশ্চিত করতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা, সব কাঁচা রাস্তা পাক, প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ড্রেনেজ ও ব্রিজ এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

"কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস পর পর পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় দ্রুত রেসপন্স টিম গঠম এবং সরকারি বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত করতে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করা হবে।”

আখতার বলেন, সরকারি বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত করতে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করা হবে, প্রশাসনিক আইনগত এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত জনসেবা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

"নির্বিঘ্ন ও চাঁদাবাজ মুক্ত ব্যবসার পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারীদের জন্য পাবলিক প্লেসে শৌচাগার,ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

“কৃতি শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা ভিত্তিক বার্ষিক বৃত্তি ও সংবর্ধনা আয়োজন,

পীরগাছা কাউনিয়া এবং হারাগাছের সরকারি হাসপাতালগুলোকে ডিজিটাল ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হবে। দলিত হরিদাস, রবি দাস, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এবং সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা উদ্যোগ গ্রহণ, নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিন্তে আলাদা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

“পাটের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পাট চাষ বৃদ্ধি,

আলু সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বিদেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হবে।”

সংসদ সদস্য প্রার্থী আখতার বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পানি ছেড়ে দেয়ার আগে ভারতকে অবহিত করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা ও চর অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য আলাদা চর মন্ত্রণালয় গঠন করা হবে।

ইশতেহারে আখতার বলেন, নেয় ইনসাফভিত্তিক সরকারি বরাদ্দ বণ্টন এবং সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলা, মসজিদ মন্দিরসহ সকল উপাসনালয়ের ন্যায় ভিত্তিক বরাদ্দ প্রদান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে

যখন ইশতেহার পাঠ করা হয়, তখন পেছনে ছিল জীর্ণশীর্ণ হয়ে আসা তিস্তা রেলওয়ে সেতু। ইশতেহার পাঠের সময়েই ওই রেলওয়ে সড়ক সেতুটি দিয়ে দুটি ট্রেন চলে যাওয়ার বিষয়টিও ছিল সবার নজরে।