দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামী। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত শক্তি।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘এদেশে কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না। আমাদের প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।’
রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। শিক্ষাই হবে জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার।’
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজের অধিকার।’
যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের সঠিক শিক্ষা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে যোগ্য ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ।’
তিনি বলেন, রাজশাহীতে শ্রমিকদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য নয়, বরং যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই হবে একমাত্র মাপকাঠি।’
একইসাথে তিনি সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পর্যটন শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে দেশের পর্যটন খাত আজ ধ্বংসের মুখে। ক্ষমতায় গেলে রাজশাহীর প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তিনি জনগণকে বিভেদ ভুলে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার মধ্য দিয়েই জনগণের মুক্তি নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ মানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দুর্নীতি ও অসৎ রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তেই এই রায় প্রয়োজন।’
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মূল সমস্যা হলো দুর্নীতি। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে দুর্নীতির মূলোৎপাটন।’
তিনি বলেন, ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির আর কোনো স্থান থাকবে না; রাজনীতি চলবে মেধা, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে। বিগত সময়ের অত্যাচার, লুটতরাজ ও অপরাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে।’
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন জনগণকে দুটি ভোট দিতে হবে—একটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং অপরটি ‘হ্যাঁ’তে।
দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ দুইটা ভোট। একটা হচ্ছে গণভোট। গণভোটে কী বলবেন? গণভোটে হ্যাঁ মানেই হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ। হ্যাঁ মানে পুরোনা রাজনীতিকে লাল কার্ড। যে রাজনীতি মানুষ খুন করে, যে রাজনীতি আয়নাঘর তৈরি করে, যে রাজনীতি দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে খুন করে, যে রাজনীতি আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করে ১২ তারিখ সেই রাজনীতিকে ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড।’
তিনি আরো বলেন, ‘এক ভাই বলেছেন রাজশাহীতে কোনো উন্নয়ন হয়নি, না উন্নয়ন হয়েছে। দুই ধরনের— একটা হলো কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি, তারপর সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট— এগুলোর কিছু উন্নয়ন হয়েছে। আবার ৫৪ বছরে উন্নয়ন হয়েছে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির। মানুষের হক নষ্ট করার ঠিকই উন্নয়ন হয়েছে, ব্যাংক ডাকাতি করার উন্নয়ন হয়েছে, শেয়ার মার্কেট লুট করার উন্নয়ন হয়েছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে পথে বসানোর উন্নয়ন হয়েছে। নিজেদের কপাল কিসমত গড়ে বাংলাদেশের টাকা বিদেশে পাচার করার এই দুই ধরনের উন্নয়ন সারাদেশে হয়েছে। এখানেও হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই জনগণের উন্নয়ন, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি নারী-পুরুষের উন্নয়ন। আমরা চাই সেই দেশ, যেখানে শান্তিতে আমরা বসবাস করতে পারবো।’
‘আমরা ওই দেশটি চাই যেখানে আমাদের শিশুরা পুষ্টি পেয়ে বড় হবে, সুস্বাস্থ্যের সাথে আর শিক্ষা পেয়ে হবে সুনাগরিক। আমরা সেই দেশটি চাই। শিক্ষার পরে মর্যাদার একটা কাজ পাবে ওই দেশটা চাই। আমার মা, আমার স্ত্রী, আমার বোন, আমার মেয়ে, তারা পাবে নিরাপত্তা ও মর্যাদা। আল্লাহর দেয়া সমস্ত অধিকার তারা এখানে নিঃসংকোচে ভোগ করবে। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তারা পরোয়া করার প্রয়োজন অনুভব করবে না,’ বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার কোথাও ন্যায়বিচার কখনো কায়েম হয়নি, হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির খালেক। আমরা বাকিরা সব মাখলুক। আল্লাহ তায়ালা জানেন তার কোনো সৃষ্টির কোথায় কী প্রয়োজন, কী দুর্বলতা, কী তার পটেনশিয়াল রয়েছে, এটা আল্লাহর চাইতে কেউ বেশি বুঝে না। সেই আল্লাহ মানবজাতির অভিভাবক-রব, তিনি যে বিধান দিয়েছেন এটা দুনিয়ার সর্বোত্তম বিধান। এ বিধান কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এই বিধান কি শুধু মুসলমানের জন্য, আমি বলব না, বলবেন এই বিধান কি শুধু মানুষের জন্য, আমি বলব না, এই বিধান সমস্ত মানবজাতির জন্য। আল্লাহর বিধান কারও ওপর জুলুম কখনো করতে পারে না। জুলুম করার প্রশ্নই ওঠে না। এদেশে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নারী, পুরুষ, দেশে বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী আছে। সাঁওতাল ভাইবোনেরা আছে। সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে— ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা আর বিভক্ত করে জাতিতে জাতিতে মানুষে মানুষে আর হিংসা এবং বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে কাউকে দেব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের রায়ের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসা সমর্থনের মাধ্যমে, আল্লাহ যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদেরকে দেন, আমরা ইনশাআল্লাহ কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। ইনশাআল্লাহ এদেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।’
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘এদেশে রাজার ছেলে রাজা হবে। বংশ-পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এদেশে আর চলবে না। এদেশে রাজনীতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে। এদেশে কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না। আমাদের প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমির মাওলানা ড. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা: মাহমুদা মিতু, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা: আবদুল বারী সরদার, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মনজুর রহমান, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক প্রমুখ।
এসময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনসভায় রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের জনসভায় রেকর্ড সংখ্যক নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান।
দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অপর এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের প্রার্থীদের মাঝে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ বা মামলাবাজ নেই।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ ও সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওয়াদা করতে হবে। এই তিন শর্তে যারা একমত হয়েছে তারা আমরা ১১ দলে একত্রিত হয়েছি। আমাদের ১১ দলে কোনো প্রার্থীর মাঝে কোনো ব্যাংক ডাকাত নাই। চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি, মামলাবাজ, নারী নির্যাতনকারী, মানুষের অধিকার হরণকারী নাই। আমরা বেছে বেছে চেষ্টা করেছি। আমরা আগামীতে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির বাক পরিবর্তন এবং জাতিকে সঠিক পথে উঠানোর নির্বাচন। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে চব্বিশ এনে দিয়েছিল আমাদেরকে, তাদের অনেকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাই আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই। এই বাংলাদেশ হবে নতুন বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘তাহলে কি এই সীমানা বড় হয়ে যাবে নাকি এখন? না, সীমানা ঠিক থাকবে; কিন্তু বাংলাদেশকে বাংলাদেশের মতো করে সাজানো হবে। অনেকে বলে, এটা সিঙ্গাপুর হবে, কানাডা হবে। আমরা বলি না, এটা উত্তম বাংলাদেশ হবে। যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ বলবে- আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন বাংলাদেশী। আরো সহজভাবে বলবে- আমিই বাংলাদেশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সে বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে শিশু, বৃদ্ধ, আবাল বনিতা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে আমার মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে, সমাজ তাদের মর্যাদা দেবে সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি। আমরা সেই শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেই শিক্ষাব্যবস্থা লড়াকু একজন সৈনিক তৈরি করবে যে দেশটাকে গড়ে দেবে। আমাদের যুবকেরা কারো কাছে বেকার ভাতা চায় না। আমরা ওয়াদাবদ্ধ। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দেব।’
অপরাধ করলে সবার সমান সাজা হবে— এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন বিচারব্যবস্থা আমরা চাই, যে বিচারে একজন সাধারণ মানুষের কোনো অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে; দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি একই অপরাধ করে; বিচার তাকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। একই শাস্তির আওতায় তাকে আনা হবে। আনতে বাধ্য করা হবে। ন্যয়বিচার যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণ সকল ক্ষেত্রে তাদের অধিকার পেয়ে যাবে। এই বাংলাদেশে কোনো অভদ্র, কোনো দুষ্টু, কোনো বেয়াদব আমার মায়েদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস পাবে না। ওই বাংলাদেশ যেখানে ধর্মবণ, জাত-পাতে ভেদাভেদ করে বাংলাদেশটাকে আর টুকরো টুকরো করতে দেব না। এই বাংলাদেশ হবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘কর্মস্থলে যে সমস্ত মায়েরা-বোনেরা কাজ করেন; তাদের জন্য বেবি কেয়ার, ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জায়গায় জায়গায়। শিল্প ও ঘন এলাকায় তাদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। রাষ্ট্রকে তারা দিয়েই যাবে, আর তাদের মূল্যায়ন রাষ্ট্র করবে না এটা হতে পারে না। এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি করবে না। শ্রমিক না চাইতেই তার দাবি পৌঁছে দিতে হবে। এই নীতিমালার ভিত্তিতে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।’
এই জনসভায় রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক।



