সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক পদ্ধতিতে স্বাধীনভাবে গঠিত হওয়ার কথা, যার দায়িত্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্টভাবে গঠন করা হয়েছে। তারা আমাদের নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত ১৬ বছর আমরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এজন্য নির্বাচন কমিশনের সংস্কার দরকার, কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান : আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার এমপি হওয়া চাই- এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করতে পারি। আর আমাদের ট্রেনটা স্টেশনে পৌঁছাবে।’
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে আমাদের নির্বাচনী অঙ্গন অপরিচ্ছন্ন। নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছে। সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে আমাদের নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে। একই সাথে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনও কলুষিত। যত অন্যায় অবিচার হয় তা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হয়, আর বড় বড় দুর্নীতি হয় আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের যোগসাজশে। তাই নির্বাচন অঙ্গনকে পরিষ্কার করা দরকার।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে দুর্বৃত্ত তার চালিকাশক্তি হচ্ছে কালো টাকা। এ টাকার প্রভাব ও আমাদের দূর করা দরকার। এটা দূর করতে হলে, নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গন পরিচ্ছন্ন করতে হলে অনেকগুলো সংস্কার দরকার। আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা দরকার।’
সুজনের বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি আয়োজিত এ সংলাপে বিভাগের ছয়টি জেলার সংসদীয় আসনগুলোর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



