হাওর ও চা-বাগান পরিবেষ্টিত দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেঁকে বসেছে শীত। হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে বেলা বেড়ে দুপুর গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলেনি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চা-শ্রমিকসহ শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ও ৯টায় জেলার একমাত্র আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী পর্যবেক্ষক মো: আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রোববার সকাল ৬টা ও ৯টায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে সকাল পেরিয়ে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মিলায় শহরে তুলনামূলকভাবে মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। ঘন কুয়াশার সাথে বাতাসের তিব্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি অনেক বেশি মনে হচ্ছে। এতে কিছুটা দুর্ভোগে পড়েছেন চা-শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে শ্রীমঙ্গলের সড়কগুলোতে গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন তারা শীতের হেভি পোশাক পরে বের হয়েছেন।
অন্যদিকে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শহরের প্রতিটি গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে ঠান্ডজনিত রোগ, বিশেষ করে স্বর্দি-কাশি, জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে।
রিকশাচালক মো: কালাম মিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যার পর তিব্র শীত অনুভব হয়। বিশেষ করে চা-বাগান এলাকায় আমাদের যেতে অনেক কষ্ট হয়। পাহাড়ের বাতাস অনেক ঠান্ডা। এখন পর্যন্ত আমাদের কেউ শীতবস্ত্র দেননি।’
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আগামীকালও (সোমবার) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।



