২ মাসেও হয়নি লালমোহনের বেতুয়া খাল ব্রিজ, জনদুর্ভোগ

প্রায় ৫০ মিটারের দৈর্ঘ্য এ আয়রন ব্রিজটি গত দুই মাস আগে একটি বালু ভর্তি ট্রাক পারাপারের সময় ভেঙে পড়লেও জনসাধারণের চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করেননি। এতে করে দুই ইউনিয়নের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

Location :

Bhola
ভেঙে পড়া ব্রিজ
ভেঙে পড়া ব্রিজ |নয়া দিগন্ত

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে বেতুয়া খালের ওপর ভেঙে পড়া ব্রিজটি দুই মাস পার হলেও পুনর্নির্মাণ বা বিকল্প কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না করায় ভয়াবহ জনদুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

প্রায় ৫০ মিটারের দৈর্ঘ্য এ আয়রন ব্রিজটি গত দুই মাস আগে একটি বালু ভর্তি ট্রাক পারাপারের সময় ভেঙে পড়লেও জনসাধারণের চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করেননি। এতে করে দুই ইউনিয়নের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

ব্রিজটি নির্মাণে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নেয়ায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজের ওপর স্থানীয় বাসিন্দারা সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে সাময়িক পারাপারের জন্য একটি সাঁকোর ব্যবস্থা করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উক্ত সাঁকো পার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের।

এতে করে উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন ও রমাগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন। ব্রিজটি নির্মাণের এক যুগ পর জরাজীর্ণ হয়ে পরলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। জরাজীর্ণ ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার প্রায় দু’মাস অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ নতুন ব্রিজ নির্মাণে বা জনসাধারণের পাড়াপাড়ের জন্য কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও দৈনিক যাতায়াতের সুবিধাভোগী মাওলানা মো: ইয়াছিন, মো: ফয়েজ উল্যাহ, মো: লোকমান, আবু মিয়া, মো: বাবুল, মো: শামীম মাষ্টার, মো: জাবের, মো: জসীম, মো: মোসলেহ উদ্দিন প্রমুখ।

বেতুয়ার খালের ওপর নির্মিত এ ব্রিজটি বাংলাদেশের বর্তমান মহামান্য (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি ও সাবেক মন্ত্রী ও স্পীকার রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম এর গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন বেতুয়া খালের ওপর ব্রিজটি ২০০৩ সালে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাগবে তিনি নির্মাণ করেছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।

জানা যায়, চলতি বছরের গত ২৩ জুন একটি বালি ভর্তি ট্রাক জরাজীর্ণ এ ব্রিজের ওপর দিয়ে পার হতে গিয়ে ভেঙে খালে পড়ে যায়, এতে করে ট্রাকের চালক মো: নাইম (২৫) নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয় ট্রাকের হেলপার মো: আল আমিন (১২)।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: তানজিলুর রহমান দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ওই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সয়েল টেষ্ট করার জন্য কয়েকটি কোম্পানির সাথে আলাপ আলোচনা চলছে, তারা সয়েল টেষ্ট করে ডিজাইন করে জমা দেয়ার পর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সয়েল টেষ্টের কাজ শুরু করা যাবে আশা করছি।