ফরিদপুরের নগরকান্দায় গলাকেটে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলে দেয়ার ঘটনায় ২১ দিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে ব্যাব-১০। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
ভাগ্নির সাথে অবৈধ সম্পর্কের জেরে ওই যুবক আলী মোল্লাকে (৩৪) হত্যা করেছে তারই শ্যালক মমরেজ ও দুলাভাই ফিরোজ মিয়া (৩৭)। এরপর র্যাব-১২-এর সহযোগিতায় কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে গ্রেফতার করে র্যাব-১০।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার ফিরোজ মিয়া নগরকান্দার মধ্যগজদিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ১ জানুয়ারি ফরিদপুরের নগরকান্দার নারায়ণখালী ব্রিজের নিচে ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের গলাকাটা লাশ। জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত ওই যুবকের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ-মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিল।
এরপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে ঘটনার ২১ দিনের মধ্যেই ক্লুলেস এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে র্যাব-১২-এর সদস্যরাও সহযোগিতা করেছেন। আসামি ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে দ্রুত বিচার আইনে দু’টি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই লাশটি জনৈক আলী মোল্লার। ফিরোজ ও মমরেজ নিহত আলী মোল্লার কাছ থেকে টাকা পেত। পাশাপাশি মমরেজের বোনের আগের ঘরের মেয়ের সাথে আলী মোল্লার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। আলী মোল্লা তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিল। এসব কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ফিরোজ তার শ্যালক মমরেজ ও আলী মোল্লা একসাথে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলায় গিয়েছিল। এরপর বিভিন্নস্থানে ট্রাকে মালামাল লোড-আনলোড করে পরেরদিন রাতে ফেরার সময় তারা একসাথে মদ পান করেন। এ সময় আলী মোল্লাকে মদের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এতে একপর্যায়ে আলী মোল্লা বমি করে অচেতন হয়ে যায়।
এরপর তারা ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পৌঁছে আলী মোল্লার হাত-পা বেঁধে ফেলে। তবে কিছুক্ষণ পর চেতনা ফিরলে আলী মোল্লা হাত-পা বাঁধার কারণ জানতে চান। এ সময় স্কচটেপ দিয়ে তার মুখ আটকে তারা আলী মোল্লার ওপর বসে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এরপর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে নগরকান্দার নারায়ণখালীতে এসে ব্রিজের নিচে গলায় আঘাত করে ব্রিজের ঢালসংলগ্ন ডোবায় লাশ ফেলে পালিয়ে যান মমরেজ ও ফিরোজ।



