এবিএম মোশাররফ হোসেন

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে

অতীতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের সম্মানজনক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সমাজে ধর্মীয় খেদমতে নিয়োজিতদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
নির্বাচনী জনসভায় এবিএম মোশাররফ হোসেন
নির্বাচনী জনসভায় এবিএম মোশাররফ হোসেন |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হবে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী ও মহিপুর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র প্রাঙ্গনে লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অতীতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের সম্মানজনক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সমাজে ধর্মীয় খেদমতে নিয়োজিতদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার কারণেই বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল এবং থাকবে।’

দেশের সার্বিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এতে কৃষক ও নারীরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসবেন।’

এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোর জন্য পরিকল্পিত পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যাতে তারা নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দাফন-কাফনের সুবিধার্থে একটি সার্বজনীন কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

যুব সমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি স্কুল ও কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এর ফলে একদিকে শিক্ষার্থীরা সুস্থ ও শৃঙ্খল জীবনধারায় অভ্যস্ত হবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মূলত দু’টি বড় রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে যেতে পারলে কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, মহিপুর ও কুয়াকাটার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে। এসব এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পর্যটন শিল্প বিকাশে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হবে।’

উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন মুসুল্লির সভাপতিত্বে এবং লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সেলিম হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুল হক নান্নু, বাংলাদেশ রাখাইন নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সাবেক পরিচালক মং এখেন মং মং, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লি, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ, কুয়াকাটা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নাসির উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

জনসভায় কলাপাড়া, মহিপুর ও কুয়াকাটা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং হাজার হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।