চট্টগ্রাম–সিলেট রেলপথে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কোনোভাবেই কমছে না। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে রেললাইনের নাজুক অবস্থা, পুরনো ইঞ্জিনের ব্যবহার এবং তীব্র টিকিট সংকট মিলিয়ে যাত্রীসেবার চিত্র এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, এই রুটের রেললাইনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত আধুনিক শক্তিশালী ইঞ্জিনগুলো এখানে চলাচল করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পুরনো ইঞ্জিন দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে কয়েক বাড়ি কমলগঞ্জ সমস্যা নগর এক্সিডেন্ট ও বগিতে আগুন ধরে। এদিকে যাত্রী চাহিদার তুলনায় টিকিট সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দৈনিক তিন থেকে চার হাজার যাত্রীর চাহিদার বিপরীতে টিকিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২০ শতাংশের মতো। এতে অনলাইন ও কাউন্টার- দুই জায়গাতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র চাপ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ভানুগাছ ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী সিলেটগামী ট্রেনের টিকিটের জন্য ভিড় করলেও বেশির ভাগই টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সড়কপথের দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে মানুষ রেলপথে ঝুঁকলেও এখানে এসে পড়ছেন নতুন সঙ্কটে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, যেখানে এই রুটে ভ্রমণের সময় হওয়া উচিত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা, সেখানে বর্তমানে সময় লাগছে আট থেকে নয় ঘণ্টা পর্যন্ত। রেললাইনের দুরবস্থা ও গতি সীমাবদ্ধতার কারণেই এই বিলম্ব ঘটছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, শুধুমাত্র অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। যাত্রী চাহিদা পূরণে নতুন ট্রেন চালুর বিকল্প নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠলেও এখনো এই রুটে নতুন ট্রেন চালু করা যায়নি। এদিকে রেললাইন সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয়ে সংস্কার কাজ হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই লাইনের অবস্থা আবারো বেহাল হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত রেললাইন সংস্কার, আধুনিক ইঞ্জিন ব্যবহারের উপযোগী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন ট্রেন চালুর মাধ্যমে এই রুটের যাত্রী দুর্ভোগ কমানো জরুরি। অন্যথায় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে সঙ্কট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



