নবীনগরে বালুমহালদের হামলায় ৪ জন গুলিবিদ্ধ

সামিউল ট্রেডার্সের ইজারা নেয়া বালুমহাল পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন করতে আসলে গ্রামের জনসাধারণ বাধা দেন। এ সময় বালুমহালের পার্শ্ববর্তী থানার মির্জাচর গ্রামের লোকরা বাধাদানকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে।

খান জাহান আলী চৌধুরী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

Location :

Brahmanbaria
হামলায় আহত ব্যক্তি
হামলায় আহত ব্যক্তি |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বালুমহালদের হামলায় চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে সামিউল ট্রেডার্সের ইজারা নেয়া বালুমহাল পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন করতে আসলে গ্রামের জনসাধারণ বাধা দেন। এ সময় বালুমহালের পার্শ্ববর্তী থানার মির্জাচর গ্রামের লোকরা বাধাদানকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে।

আহতরা হলেন-আলিম, নূরু মিয়া, সফর মিয়া ও নুরুল মিয়া। তাদের নবীনগর উপজেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘আজ সকালে ড্রেজার দিয়ে আমাদের ফসলি জমি কেটে নিচ্ছিল। পরে গ্রামের জনসাধারণ বাধা দিলে তাদের বাহিনী আমাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের অনেক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। পাশের উপজেলার রায়পুরা গ্রামের মির্জাচর গ্রামের সন্ত্রাসীরা আমাদের গ্রামের মসজিদ, বিদ্যালয়, ফসলি জমি বিলীন করে ফেলছে।’

চর লাপাং গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান এমপি সাহেবের কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই।’

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বালুমহালের সন্ত্রাসীরা আজ তাণ্ডব চালিয়ে আমাদের অনেক মানুষকে গুলিবিদ্ধ করে আহত করে। তারা প্রথমে স্পিডবোট থেকে গুলি ছোড়ে। পরে আরো চার থেকে পাঁচটি বোট নিয়ে তারা চরে নেমে ছোড়া গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে তারা আমাদের বাজারে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’

পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান বলেন, ‘মির্জাচরের তিন থেকে চারটি স্পিডবোট বালু উত্তোলনের সময় তারা অস্ত্র দিয়ে মহড়া দেয়। ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।

Topics