সুনামগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্থাটির কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারের (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ বলেছেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে শোষিত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।’
সোমবার (১৯ মে) সকালে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারের (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো: আক্তার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ, দুদকের সিলেট সমন্বিত কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রাফি নাজমুস সাদাত, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম।
হাফিজ আহ্সান ফরিদ বলেন, ‘দুর্নীতি এখন আর শুধু জনপ্রতিনিধি, নেতা, সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে নেই, এটা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে বোঝা গেছে দেশে কি পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। দেশের সব শেষ করে দিয়েছে, সব শোষণ করে নিয়েছে।’
কাউকে ঘুষ না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যারা ঘুষ খায়, তারা অ-মানুষ। সে তার নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনকে অসম্মান করছে। ঘুষ দেবেন না, চিৎকার করুন, প্রতিবাদ করুন। সবাই কথা বললে এ অবস্থার পরিবর্তন আসবে। এক সময় দুদকের আর দরকার হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ এখন দুর্নীতির বিষয়ে অনেক সচেতন। আগের চেয়ে মানুষ এখন বিভিন্ন অফিস আদালতে মন খুলে কথা বলতে পারছে। তথ্য-প্রযুক্তির যুগে মানুষের হাতের কাছেই এখন সব কিছু পাওয়া যাচ্ছে। থাইল্যান্ড সিঙ্গাপুরে কি হচ্ছে বাংলাদেশে বসে মানুষ জানতে পারছে। যার কারণে আশেপাশের ঘটনা মানুষ নিজ চোখেই দেখতে পারছে। অবৈধভাবে যারা সফল হয়েছে দুর্নীতি হচ্ছে তাদের হাতিয়ার, এর জন্যই দেশের মানুষের মনে যে ক্ষোভ জন্মেছিলো সেটির জন্য চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান।’
গণশুনানিতে সেবাপ্রার্থীরা, পৌরসভা, বিদ্যুৎ বিভাগ, জেলা সদর হাসপাতাল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পুলিশ বিভাগ, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, নির্বাচন কার্যালয়, বিআরটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, ভূমি, পাসপোর্ট, জেলা কারাগার, সেটেলমেন্ট কার্যালয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, বিটিসিএলসহ বিভিন্ন বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার লোকজন অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জবাব এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। ভূমি বিষয়কের ওপর সবচেয়ে বেশী অভিযোগ করেন সেবা প্রার্থীরা।
গণশুনানিতে শাল্লার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও দুদকের ডাকে সাড়া না দিয়ে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকেন এবং দুদকের এক কর্মকর্তাকে ফোনে ‘আপনারা যা পারেন তাই করতে’ বলেন।
বিষয়টি নিয়ে শুনানিতে আলোচনা হলে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করবেন বলে জানান। এলজিইডি, পাসপোর্ট অফিস ও জেলা নির্বাচন অফিসে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এসব খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এছাড়া সেবাপ্রাপ্তিদের সমস্যা সমাধানে সময়ও বেঁধে দেন। এসব অভিযোগ মনযোগ সহকারে শুনেন দুদক কমিশনার।



