মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার আরিফ মিয়া (১২) নামের এক কিশোরের লাশ নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পাশের ইটনার উপজেলার ধেনু নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আরিফ খালিয়াজুড়ি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট গ্রামেরসাবেক মেম্বার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
আরিফের বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত ১০ মে আরিফ তার চাচাতো ভাই জয় ও রাকিবের সাথে পাশ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর গ্রামের হাওরে একটি হাঁসের খামারে অবস্থান করছিল। রাত আড়াইটার দিকে ধনপুর গ্রামের উক্তু মেম্বারের ছেলে সুজাদ ও বক্ত মিয়ার ছেলে বিবেক খামার থেকে আরিফকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আরিফ নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সুজাদ ও বিবেক দায়ী বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরদিন ১২ মে খালিয়াজুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আরিফের বাবা।
খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দীন জানান, আরিফ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার বাবা থানায় জিডি করেছিলেন। শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৩টার দিকে ধনপুর গ্রামের পাশে কালিরচর এলাকায় ধেনু নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে এসআই আব্দুল করিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি আরো জানান, লাশ উদ্ধারের পর ইটনা থানা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ধনপুর গ্রামের পাশে কালিরচর এলাকায় ধেনু নদী থেকে আরিফের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
খালিয়াজুড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, “আরিফের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”



