নলডাঙ্গায় ৪ শতাধিক পাখি জবাই : নয়া দিগন্তে সংবাদের পর থানায় বনবিভাগের অভিযোগ

বন কর্মকর্তা জানান, বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করেছে মর্মে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Natore
নয়া দিগন্ত

নাটোরের নলডাঙ্গায় শালিক ও বক পাখি শিকার করে জবাই করার দায়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীর সামাজিক বনবিভাগের নাটোর এসএফএনটিসি-এর ফরেস্ট রেঞ্জার মো: জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করেছে মর্মে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার হাটবিল এলাকার মো: বাবলু তালুকদারের ছেলে মো: বিপ্লব তালুকদার, একই এলাকার মো: জেহেরের ছেলে মো: আশিক (২৪), মো: মান্নানের ছেলে মো: ইসলাম, মো: হোসেনের ছেলে মো: সজীব।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নলডাঙ্গা উপজেলা ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিল এলাকার কিছু দুষ্কৃতিকারী শালিক পাখি শিকারের পর জবাই করে। পাখির গোশত খাওয়ার উদ্দেশে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখিগুলো শিকার করা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাখিগুলো শিকার করে উক্ত আসামিরা বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করেছে মর্মে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

বন কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নলডাঙ্গার হাটবিলা এলাকায় সংঘটিত পাখি হত্যার ঘটনাটি আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। নিরীহ শালিক পাখিকে ফাঁদ পেতে ধরে জবাই করা তা শুধু একটি অপরাধই নয়, আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর সরাসরি এক আঘাত। আশা করছি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক আইনের আওতায় আনবে। বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই পাখিগুলো আমাদের কৃষি ও পরিবেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।’

ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা সুবেদার ইসলাম জানান, নলডাঙ্গায় পাখি হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ কর্তৃক এজাহার দায়ের করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা এলাকার একটি বিলে সংবদ্ধ একটি চক্র পাখি শিকারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা অনেক শালিক, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি শিকার করার পর সেগুলো জবাই করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন। জবাই করা পাখির সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে ৫০০। এ ঘটনাটি জানাজানির পর থেকে জড়িত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।