অস্ত্রের মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা দুই বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাই

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা অবৈধ বালুভর্তি দুটি ট্রলার প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
অস্ত্রের মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা দুই বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাই
অস্ত্রের মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা দুই বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাই |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা অবৈধ বালুভর্তি দুটি ট্রলার প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

প্রশাসনের জব্দ করা আলামত এভাবে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বেপরোয়া শক্তি ও প্রশাসনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানানোরই বহিঃপ্রকাশ।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের বটতলা বালুর ঘাট ও পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর ইউনিয়নের চর রামমোহন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উচাখিলার মরিচারচর এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগের পর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। অভিযানে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুভর্তি দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়।

পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও নিলামের সুবিধার্থে ট্রলার দুটি নদীপথে রাজিবপুর ইউনিয়নের চর রামমোহন এলাকায় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা উবায়দুর রহমানের (৪৫) জিম্মায় রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই মরিচারচর গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্রধারী সেখানে উপস্থিত হয়। তারা জিম্মাদার উবায়দুর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রশাসনের জব্দ করা বালুভর্তি দুটি ট্রলার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় উচাখিলা, রাজিবপুরসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ করা সরকারি হেফাজতের আলামত যদি প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের কর্তৃত্ব কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, "এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারব না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।"

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিনা রহমানের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, ঘটনার পর প্রশাসনের জব্দ করা ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।