মে দিবসের শ্লোগানে উত্তাল রংপুর মহানগরীর রাজপথ

জেলা প্রশাসন, আঞ্চলিক শ্রম দফতর এবং কলকারখানা ও পরিদর্শন পরিদফতরের আয়োজনে এতে অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও তাদের নেতাকর্মীরা। পরে শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
শ্রমিক দিবসের র‌্যালি
শ্রমিক দিবসের র‌্যালি |নয়া দিগন্ত

মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্লোগানে উত্তাল রংপুর মহানগরীর রাজপথ। শ্রমিকদের দাবি নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চয়তা করা।

শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টার দিকে ডিসি অফিস চত্বর থেকে সিটি করপোরেশন প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন, আঞ্চলিক শ্রম দফতর এবং কলকারখানা ও পরিদর্শন পরিদফতরের আয়োজনে এতে অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও তাদের নেতাকর্মীরা। পরে শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়াও নগরীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, মোটর, ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল, বিদ্যুৎ, অটো, দরজি, বেকারি, ভ্যান, রিকশা ইউনিয়নসহ ৩৬টি বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিক সংগঠন শোভাযাত্রা বের করে। প্রতিটি শোভাযাত্রা ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নগরী।

ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমরা ৮ ঘণ্টার কাজের নিশ্চয়তা চাই। নিরাপত্তা চাই। টর্চার মুক্তি চাই। পুলিশের হয়রানি থেকে মুক্ত থাকতে চাই। এটাই আমাদের দাবি।’

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শ্রমিকরা হচ্ছে একটি সভ্যতার রূপকার। তাদেরকে সবার প্রতি ধন্যবাদ এবং তাদের আত্মত্যাগকে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তারা যে সকল জায়গায় কাজ করে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সার্বিকভাবে তাদের ন্যায়বিচার, তাদের সমতা, তাদের মজুরি যেটা প্রাপ্য সঠিকভাবে পায় সে সম্পর্কে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদেরকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। সংগ্রামের মূল বিষয় হচ্ছে যে তারা সুস্থ থাকবে। তারা সমৃদ্ধি করবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের শ্রমিক কার্ড দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে পরিবার, স্বাস্থ্য এবং স্বপ্ন দেখার পরিকল্পনা, অধিকার, ন্যায্য মজুরী নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।’

সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে সকল বিষয়গুলো আছে সেগুলো সর্বাগ্রে তাদের অগ্রাধিকার দিবো। বিশেষ করে রংপুরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, আমাদের এ অঞ্চলের যে বেকার শ্রমিকেরা আছে তাদেরকে সুশিক্ষিত করে, তাদের পরিবার পরিজনকে দক্ষ করে কারিগরি দক্ষতায় তাদেরকে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান যেন বৃদ্ধি পায় সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। শ্রমিকদের আমরা সম্পদে পরিণত করতে চাই।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, উন্নত নগরী বিনির্মাণে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন শ্রেণির যে শ্রমিক আছেন তাদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং তাদের ন্যায্য যে প্রাপ্য সে প্রাপ্যগুলোর ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি এবং প্রত্যেকটি ন্যায্য এবং ন্যায়সংগত শ্রমিকের যে অধিকার, সে অধিকারগুলো আমরা বর্তমান নির্বাচিত যে সরকার আছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বলেছেন শ্রমিকদের যে ন্যায্য হক বা যে পাওনা সেটি অবশ্যই কার্যকর করা হবে। সে লক্ষে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি।’