মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক ১৪টি ভারতীয় অবৈধ মহিষের মালিকানা দাবির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ভুয়া প্রমাণিত হলে কাগজপত্র যাচাইকালীন সময়ে দুই স্থানীয় বিএনপি নেতার জিম্মায় দেয়া ওই ১৪টি মহিষ উদ্ধারে গিয়ে মাত্র পাঁচটির সন্ধান পেয়েছে যৌথ বাহিনী। বাকি নয়টি মহিষ গায়েব হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে বিজিবি-পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বিজিবি-পুলিশের যৌথ বাহিনী উপজেলার গৌড়নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাশের একটি ডোবা থেকে পাঁচটি ভারতীয় মহিষ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট বিজিবির বিওসি টিলা ক্যাম্পের আওতাধীন গৌড়নগর এলাকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমান সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতীয় মহিষের একটি চালান এনে নিজ বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, তার বাড়িতে ভারতীয় ১৪টি অবৈধ মহিষ রয়েছে। পরদিন ১৫ আগস্ট মহিষগুলো উদ্ধারে বিজিবি-পুলিশের যৌথ দল লুৎফুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় লুৎফুর রহমান মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করে দুটি রশিদ প্রদর্শন করেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে রশিদগুলো ভুয়া বলে বিজিবি নিশ্চিত হলেও লুৎফুর রহমান ও তার ভাই হিফজুর রহমান মহিষ উদ্ধারে বাধা দেন। লুৎফুর রহমানের প্রদর্শিত কাগজপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগার কারণে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ ১৪টি মহিষ বিজিবির কাছ থেকে নিজেদের জিম্মায় নেন। তবে জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও মহিষগুলো কথিত চোরাকারবারি লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই রাখা হয়। এদিকে বিজিবি অধিকতর যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে লুৎফুর রহমান ও তার ভাই হিফজুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে জিম্মাদার দুই বিএনপি নেতাকে সাথে নিয়ে মহিষগুলো উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমানের দিকনির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মেজর মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ১৪টি মহিষের একটিও পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পাঁচটি মহিষের সন্ধান পাওয়া গেলে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গৌড়নগরের চিহ্নিত চোরাকারবারি লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ১৫ আগস্ট ভারতীয় অবৈধ মহিষ উদ্ধারে বিজিবি-পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। তার বাড়িতে ১৪টি ভারতীয় মহিষ পাওয়া গেলেও সেগুলো উদ্ধারে তিনি বাধা সৃষ্টি করেন এবং কিছু ভুয়া কাগজপত্র প্রদর্শন করে মালিকানা দাবি করেন। অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি মহিষগুলো জিম্মায় নেন।
তিনি আরো বলেন, মালিকানা দাবির রশিদগুলো যাচাই-বাছাই শেষে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার মহিষগুলো উদ্ধারে গেলে ১৪টির মধ্যে পাঁচটি পাওয়া যায়। অপর নয়টি মহিষ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এদিকে গায়েব হয়ে যাওয়া নয়টি মহিষ কোথায় নেয়া হয়েছে এবং এর সাথে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে বিজিবি-পুলিশ।



