কানাইঘাটে বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে ১ ব্যক্তিকে হত্যা

বছরখানেক আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়ে আব্দুল হান্নান হানাইয়ের সাথে ডাকাত ফারুক আহমদের সংঘর্ষ হয়।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Kanaighat
আব্দুল হান্নান হানাইর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
আব্দুল হান্নান হানাইর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ |নয়া দিগন্ত

সিলেটের কানাইঘাটে আব্দুল হান্নান হানাই (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে তার নিজ বসতঘরে ঢুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (৯ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাখালছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল হান্নান ওই গ্রামের মরহুম শফিকুল হকের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বড় ভাই আব্দুল মান্নানসহ পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, আব্দুল হান্নান তার ছেলে শাহরিয়ার আহমদকে প্রবাসে পাঠানোর জন্য সম্প্রতি জমি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা ঘরে রাখেন। রোববার ভোর ৫টার দিকে টাকাগুলো লুটের উদ্দেশ্যে ডাউকেরগুল গ্রামের মৃত ফরমান সর্দারের ছেলে কুখ্যাত ডাকাত ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিন তাদের সহযোগী সাত-আটজনকে সাথে নিয়ে আব্দুল হান্নানের বসতঘরে ঢুকে করে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সকাল ১০টার দিকে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ কানাইঘাট থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

তবে স্থানীয়রা জানান, বছরখানেক আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়ে আব্দুল হান্নান হানাইয়ের সাথে ডাকাত ফারুক আহমদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ফারুক আহমদ আহত হয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই মূলত ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিনসহ তাদের সহযোগীরা আব্দুল হান্নান হানাইকে তার বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, একাধিক ডাকাতি ও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিন দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর প্রায় তিন বছর আগে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আসে। এরপর তারা আবারো অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাদের হাতে আব্দুল হান্নান হানাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আব্দুল হান্নান হানাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর থানা পুলিশের একাধিক টিম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’