‎ঈশ্বরগঞ্জে এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন থাকা গ্রামবাসীর পিডিবি অফিসে হামলা

শিমরাইল গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

Location :

Ishwarganj
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং (ডানে) ভাংচুরের দৃশ্য
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং (ডানে) ভাংচুরের দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

‎ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরে চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলীর দফতরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিমরাইল গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও অফিস সূত্রে জানা যায়, বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে ঢুকে হিসাব সহকারী মোক্তারুজ্জামানের কক্ষের একটি কাঁচের দরজা ভাঙচুর করেন। এছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমের কক্ষে থাকা আসবাবপত্রও এলোমেলো করে দেয়া হয়। এ সময় গ্রাহকদের ধাক্কাধাক্কিতে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন অফিসের কর্মচারীরা।

‎শিমরাইল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও খামার উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে আবাসিক, মৎস্য, গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইনের ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ট্রান্সফরমার দ্রুত প্রতিস্থাপনের জন্য গ্রামবাসী ও খামার উদ্যোক্তারা একাধিকবার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

‎বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন খামারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। খামার উদ্যোক্তা আবুল বাশার রিপনের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় মারা গেছে। মিনু মিয়ার পোল্ট্রি খামারে দেড় শতাধিক মুরগি মারা যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া শফিকুল ইসলামের প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের মাগুর মাছের রেণু এবং দুলাল হ্যাচারির প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের মাছের রেণু নষ্ট হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

‎খামার উদ্যোক্তা আবুল বাশার রিপন অভিযোগ করে বলেন, দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি লাইনম্যান হুমায়ুনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে হুমায়ুন ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। দর-কষাকষির পর নগদ ২০ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরো পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে দাবি করেন বাশার।

‎এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ হয়ে শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন।

‎পরে খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি গ্রাহকদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন। এ সময় দ্রুত একটি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের আশ্বাস দেয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

‎তবে ট্রান্সফরমারের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমারের জন্য টাকা দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

‎এবিষয়ে আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ অফিসে হামলায় কোনো আহত নেই। বৃহস্পতিবার শিমরাইল গ্রামে একটি ট্রান্সফরমার বসানো হবে এটা সবাই জানে। এটি একটি সেটেল ইস্যু। এরপরও গ্রামবাসী হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’