ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে লেগে থাকছে দীর্ঘ যানজট। এতে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোর থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে গাজীপুরের টঙ্গী, চান্দনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, ভালুকা ও ত্রিশাল এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও থেমে থেমে চলছে গাড়ি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশে ভালুকার মাস্টারবাড়ি, সীডস্টোর, বাসস্ট্যান্ড ও ত্রিশাল এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে বাজার ও বিভিন্ন দোকানপাট। পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি হয়েছে বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো এবং বালু ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে চার লেনের মহাসড়কের অনেক স্থান দুই লেনে পরিণত হয়েছে।
ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই, দিঘারকান্দা বাইপাস, মাসকান্দা, পলিটেকনিক মোড়, চরপাড়া ও ব্রিজ মোড় এলাকায় যানজটের চিত্র আরো ভয়াবহ।
যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পার্কিং, স্থানীয় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও সড়ক মেরামতের কাজ চলায় যানবাহনের গতি আরো কমে গেছে।
ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে যেখানে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এখন সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘ যানজটে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
এদিকে, ময়মনসিংহ নগরীতেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নগরীর ব্রিজ মোড় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এরসাথে যুক্ত হয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চাপ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজ মোড়, চরপাড়া মোড় ও গাঙ্গিনারপাড়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ব্রিজ মোড় এলাকায় অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক থেকে শুরু করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও।
ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) গোলাম মওলা তালুকদার জানান, পাঁচ হাজার গাড়ির ধারণ ক্ষমতার রাস্তায় যানবাহন চলাচল করে ৫০ হাজারের বেশি। অন্যদিকে রেললাইনের কারণে দিনে প্রায় আট ঘণ্টা ১০টি সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখতে হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, তার জন্য সব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘নগরীতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঈদের আগে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তবে সচেতন নাগরিকদের মতে, ঈদের আগে মহাসড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হলে লাখো ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।



