বরিশালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে সংবর্ধনা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বরিশালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা
বরিশালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা |নয়া দিগন্ত

এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে এসএসসি জিপিএ-৫ সংবর্ধনা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক কৃতী শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খন্দকার এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা: কে এম জাহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও বরিশাল মহানগর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

পরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুল, ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও বই উপহার প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই শিক্ষাজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মেধাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাই বর্তমান সময় থেকেই নিজেদের দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একটি ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীর সামনে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নিজেদের জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা প্রমাণ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃতী শিক্ষার্থীরা বলেন, জিপিএ-৫ সংবর্ধনা তাদের জন্য আনন্দ ও উৎসাহের একটি বিশেষ মুহূর্ত। তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার জন্য এ আয়োজন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কঠোর পরিশ্রম করার এবং অর্জিত জ্ঞান দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অভিভাবকরাও তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, সন্তানদের সাফল্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করে।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা জোগানোই এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নয়, বরং জ্ঞান, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।