কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। একের পর এক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। উপজেলার মঙলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শৈলজানী আলিম মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সায়েদুজ্জামান (৮০) এবং তার স্ত্রী মোমতাজ জামান (৬০) এই পরিস্থিতির শিকার।
তবে চোরদের উপদ্রব ও প্রতিকারের আশায় সোমবার (১৫ জুন) পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সায়েদুজ্জামান।
সর্বশেষ গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চোরেরা বসতঘরের তালা ভেঙে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি, চার্জার ও ওয়াইফাই রাউটারসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র লুটে নেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রবীণ দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। সন্তানরা সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সংসারের প্রয়োজনে বাইরে অবস্থান করছেন। বড় ছেলে চাকরি সুবাদে সপরিবারে ঢাকায় এবং ছোট ছেলে সপরিবারে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। অন্যদিকে বড় মেয়ে বিবাহসূত্রে কুমিল্লায় এবং ছোট মেয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। বছরে দু-একবার ছাড়া সন্তানরা সাধারণত বাড়িতে আসতে পারেন না। বাড়িতে কোনো তরুণ বা পুরুষ সদস্য না থাকার এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে চোর চক্র।
ভুক্তভোগী সায়েদুজ্জামান জানান, গত দু’বছরের মধ্যে তার বাড়ি থেকে একে একে পাঁচটি পানির মোটর এবং একটি টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। গত শুক্রবার রাতে চোরেরা বসতঘরের তালা ভেঙে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি, চার্জার ও ওয়াইফাই রাউটারসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র লুটে নেয়।
বারবার চুরির ঘটনায় এই বৃদ্ধ দম্পতি এখন জানমালের ভয়াবহ আশঙ্কায় দিন পার করছেন। চোর চক্রটি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাদের শারীরিক কোনো ক্ষতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে কি না এই ভয়ে তারা আতঙ্কিত।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, যেহেতু ওই বৃদ্ধ দম্পত্তি একা একটা বাড়িতে থাকেন তাই বাড়িটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



