ফেনীতে নির্বাচনে অনিয়ম-সহিংসতার প্রতিকার চান মঞ্জু

ফেনীতে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন সংঘটিত অনিয়ম, সন্ত্রাস ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতার বিচার ও প্রতিকার চেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে নির্বাচনে অনিয়ম-সহিংসতার লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়
ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে নির্বাচনে অনিয়ম-সহিংসতার লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় |নয়া দিগন্ত

ফেনীতে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন সংঘটিত অনিয়ম, সন্ত্রাস ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতার বিচার ও প্রতিকার চেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি ফেনী-২ (সদর) আসনে ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে তার পক্ষে জোটের নেতারা লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

এ সময় জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, প্রচার সম্পাদক ও ঈগলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আ. ন. ম. আবদুর রহীম, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোজাফফর আহমদ জাফরী, যুগ্ম সম্পাদক আজিজ উল্যাহ আহমদী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মু. ফজলুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের দিন সহিংসতার ডজনখানেক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মঞ্জু অভিযোগে উল্লেখ করেন, “ফরহাদনগর ইউনিয়নের চর কালিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঈগল মার্কার কর্মী রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জঘন্য কায়দায় জখম করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জনগণ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের এলাহীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার কর্মী ওসমান গণিসহ দুজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমি নিজে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করলেও পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

মোটবী ইউনিয়নে এবি পার্টির নেতা মোর্শেদকে জীবননাশের হুমকিদেয়া হয়, এমনকি তার পরিবারকেও লাঞ্ছিত করার ভয় দেখানো হয়। এ নিয়ে পরিবারের লোকেরা সে কেন নির্বাচনে ঈগলের পক্ষে ভোট করতে গেল—এমন বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত করে তার মোবাইল কললিস্ট পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

পৌরসভার বিরিঞ্চি সুফিয়া নুরিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার বাবুল জোরপূর্বক কেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও কর্তব্যরত প্রিসাইডিং অফিসার হাজারী তাদের নিবৃত্ত করতে গড়িমসি করেন। পরবর্তীতে এডিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

বালিগাঁও ইউনিয়নের কাতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার নির্বাচনী এজেন্টকে জখম করতে তাড়া করলে তিনি কোনো রকমে পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে। লেমুয়া ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার এজেন্ট ও কর্মীদের মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তারা বের হয়ে আসেন। এর কোনো প্রতিকার পরিলক্ষিত হয়নি।

শর্শদী ইউনিয়নের ঘাগরা কেন্দ্রে আমার বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় এবং অপহরণের হুমকি দেয়া হয়। ভোটগ্রহণ শেষেও তাদের তাড়া করে ধানের শীষের কর্মীরা। এমনকি কয়েকজনের বাড়িঘরেও হামলা করা হয়।

ফরহাদনগর ইউনিয়নের মাহবুবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবদল নেতা শাহাদাতের নেতৃত্বে ঈগলের কর্মীকে হামলা করে নির্যাতনের পর তাকে লাঠিসোটা হাতে দিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। পরে যাচাই-বাছাই করে একজন ষড়যন্ত্রকারীকে আটক করে সেনাবাহিনী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা ঈগল প্রতীকের ওই কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে দেয়া হচ্ছে না।

ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিল যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন, মিয়া ধন ও আবদুল মালেক। ভোট প্রদানে বাধা দেয়ায় প্রতিবাদ করলে আলেম, বৃদ্ধ এমনকি নারীদের ওপরও হামলা চালায় ধানের শীষের কর্মীরা।

ফেনী পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাকিয়া বাড়ি কেন্দ্রে ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন ঈগলের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেন এবং কেন্দ্র পরিচালক বাবুলকে হুমকি প্রদান করেন। কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহাগের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ সদস্য নিয়ে কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করা হয় এবং আমার ভোটারদের এলাকা ছাড়া করার হুমকিদেয়া হয়।

নির্বাচনের পর থেকে শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর শর্শদী গ্রামে আমার নিজ বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে ঘাগরা, জাহানপুর, আবুপুর, দেবীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে আমার এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়িঘরে হামলার হুমকিদেয়া হচ্ছে। ধর্মপুর, কাজিরবাগ, পাঁচগাছিয়া, মোটনি, কালিদহ, ধলিয়াসহ প্রায় সব ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী এবং আমাদের ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন ও হুমকি প্রদর্শন চলছে।”