ভাইরাল ভিডিও

সোনারগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি মারা সেই কিশোর আটক

ভুক্তভোগীকে টিসি দেয়া নিয়ে সমালোচনা

গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোনারগাঁও থানাকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Sonargaon
অভিযুক্ত দিলসাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
অভিযুক্ত দিলসাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ |সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে স্কুলশিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারা ওই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিদ্যালয় থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে টিসি দেয়ারও সমালোচনা চলছে।

ওই ছাত্রী সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের দাবি, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে টিসি দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের।

তবে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। তাদের পরিবারকে তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এমন করলে চিঠির মাধ্যমে টিসি দেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোনারগাঁও থানাকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে তাকে বাবা-মায়ের সহযোগিতায় শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। অপরাধ সংশোধনের জন্য তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এসময় বখাটে এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে পেছন থেকে আবার উড়ন্ত লাথি মারে ছেলেটি। এসময় কেউ একজন এটি মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক ও মা মোসা: দুলালী গার্মেন্টসকর্মী।

জানা যায়, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। এবং ওই ছাত্রী চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে আসার পর অভিযুক্ত কিশোরকে রংপুর থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে সমাজ সেবা কর্মকর্তার জিম্মায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার জানান, ‘বিভিন্ন সময়ে দুই শিক্ষার্থী স্কুলে না এসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। তবে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিক বার মৌখিক সতর্ক করা হলেও তারা শোনেনি। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভবিষ্যতে এমন করলে তাদের টিসি দেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। তবে ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে শুনেছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা জানান, ‘স্কুলছাত্রীকে লাথি দিয়ে ভাইরাল কিশোরকে তার জিম্মায় বাবা-মায়ের কাছে দেয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাস ওই কিশোরকে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রমোশন অফিসারের কাছে বাবা-মাসহ প্রতি মাসে দু’তিন বার হাজিরা দেবে। এ কিশোরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উত্যক্তের শিকার মেয়ের ও তার পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’