নেই সড়ক ও সেতু, নদীবন্দী অর্ধশত পরিবার

স্কুলে যেতে ভাঙা সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। একদিন পড়ে গিয়ে পা কেটে গেছে। তাই স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে করে না।

সৈয়দ রোকনুজ্জামান, গাইবান্ধা

Location :

Sadullapur
ভাঙা বাঁশের সাঁকো, দ্বীপ গ্রামের একমাত্র অবলম্বন
ভাঙা বাঁশের সাঁকো, দ্বীপ গ্রামের একমাত্র অবলম্বন |নয়া দিগন্ত

গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। আর সেই নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীবন্দী হয়ে পড়েছে দ্বীপ গ্রামের অর্ধশত পরিবার। তাদের চলাচলের মূল সড়কের সাথে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। পারাপারের জন্য আছে শুধু একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।

ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো আর অন্যের কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাফেরা করতে হয় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মহিষবান্দী গ্রামের বাসিন্দাদের। এতে প্রাণহানিসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দী পূর্বপাড়া (দ্বীপ) এলাকায় গিয়ে মানুষের চরম ভোগান্তির এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ঘাঘট নদীর ওপর ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু-শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষ। ওপারে পৌঁছে নেই কোনো সড়ক। বাধ্য হয়ে কৃষকের জমির আইল দিয়ে হেঁটে উঠতে হয় মূল সড়কে।

স্থানীয়রা জানায়, মহিষবান্দী পূর্বপাড়া এলাকায় কয়েক যুগ ধরে শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন। এখানকার সবগুলো পরিবার দারিদ্রসীমার নিচে জীবনযাপন করেন। তাদের অন্যের জমির আইল দিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে প্রধান সড়কে পৌঁছাতে হয়।

একসময় বাড়িগুলোর তিন পাশে নদী থাকলেও উত্তর পাশে কোনো নদী ছিল না। তবে বছর দুয়েক আগে অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে এখন বসতভিটার চারপাশে নদী বয়ে যাওয়ায় গ্রামটি কার্যত দ্বীপে পরিণত হয়েছে। যার কারণে নদীবন্দী হয়ে পড়েছে দ্বীপের বাসিন্দারা।

সময়ের ব্যবধানে সমাজ উন্নয়ন তথা দেশের পরিবর্তন ঘটলেও আজও পরিবর্তন হয়নি এই দ্বীপের করুণ অবস্থা। জনপ্রতিনিধিরাও কখনো এই দ্বীপের বাসিন্দাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার চেষ্টা করেননি। সড়ক ও সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন দেখার কেউ নেই।

ভুক্তভোগীরা জানান, বর্ষার মৌসুমে নদীর পানি কানায় কানায় ভরে গেলে বেড়ে যায় আরো দুর্গতি। এছাড়াও হঠাৎ কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জীবন নির্ভর করে সময়ের ওপর। একটু দেরি হলেই রোগীর জীবন অসহ্য যন্ত্রণাসহ ওখানেই মৃত্যুর প্রহর গুণতে হয়। এছাড়া শিক্ষার আলো থেকে ঝড়ে পড়ছে তাদের সন্তানেরা।

সড়ক ও সেতুর অভাবে কয়েক বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি নতুন সরকার ও এমপি এই স্থানে সড়ক নির্মাণসহ খালের ওপরে সেতু নির্মাণ করবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন।

নদীবন্দী পরিবারের একজন ডিপটি মিয়া বলেন, প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। এতে করে সময় নষ্টসহ ঝুঁকিতে থাকতে হয় জীবনের ভয়ে। ইতোমধ্যে সাঁকো থেকে পড়ে আজিজার রহমান নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এখানে একটি রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি করছি।

স্কুল শিক্ষার্থী ওমর ফারুক মিয়া (১২) বলেন, স্কুলে যেতে ভাঙা সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। একদিন পড়ে গিয়ে পা কেটে গেছে। তাই স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে করে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ফুল মিয়া বলেন, আমাদের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা ও ব্রিজ না থাকায় রাতের বেলায় সেখান থেকে কৃষকের মাঠের মধ্য দিয়ে হেঁটে বাড়িতে ঢুকতে হয়। আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে করাতেও খুবই কঠিন সমস্যার মুখোমুখী হতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, কিছু কিছু এলাকায় বড় ধরনের সমস্যা থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আর সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তারা খুব সহজেই নজরে নিতে চান না। মানুষের ভোগান্তিগুলো তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে সমাধান করা উচিত। সেখানে তাদের অবগতি করেও কাজ হয় না।

এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে ইউএনও’র সাথে দ্বীপ এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ দরকার। এ সমস্যা নিরসনের জন্য আবারো সংশ্লিদের জানানো হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো: মেনাজ বলেন, ওই এলাকায় রাস্তা ও ব্রিজের সমস্যা রয়েছে এ সংক্রান্ত তথ্য আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যস্থা নেয়া হবে।