ঈদগাঁওতে ফসলি বিলে জলাবদ্ধতায় পিছিয়ে যাচ্ছে আমন চাষ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন ফসলি বিলে জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধান রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা।

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

Location :

Eidgaon
ঈদগাঁওতে ফসলি বিলে জলাবদ্ধতায় পিছিয়ে যাচ্ছে আমন চাষ
ঈদগাঁওতে ফসলি বিলে জলাবদ্ধতায় পিছিয়ে যাচ্ছে আমন চাষ |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন ফসলি বিলে জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধান রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা।

ইতোপূর্বে ফসলি জমি থেকে টপসোয়েল কেটে নেয়ায় নিচু হয়ে যাওয়া ধানি জমিতে জলাবদ্ধতার ফলে পানি জমে থাকায় ধানের চারা রোপণ করতে না পেরে চাষের মৌসুম পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষি ও গৃহস্থরা।

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর গত প্রায় দুই মাস ধরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এ বৃষ্টির পানি এখনো জমে আছে অপেক্ষাকৃত নিচু ধানখেতে। ফলে ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চাষি, কৃষক ও ভূমিমালিকদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজী পাড়ার কৃষক জাফর আলম বলেন, জেলার অন্যতম শস্যভাণ্ডার জালালাবাদ ধনকা বিলে গলাসমান বৃষ্টির পানি এখনো জমে আছে। ফলে মৌসুম প্রায় শেষ হতে চললেও ধানের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বোয়ালখালী এলাকার ভূমিমালিক আবু ছালেহ বলেন, প্রতি বছর ফসলি জমি থেকে টপসোয়েল কেটে নেয়ায় জমি নিচু হয়ে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী গ্রামের গৃহস্থ ফরিদ মিয়া বলেন, ‘প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার পরপরই উপজেলার ডজনখানেক ইটভাটা একযোগে কৃষিজমি থেকে টপসোয়েল কাটতে শুরু করে। এতে জমি নিচু হতে হতে এখন প্রায় জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।’

উপজেলার ফসলি জমির বিলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে জালালাবাদ ইউনিয়নের ধনকা বিল। জেলার শস্যভাণ্ডার খ্যাত তিন সহস্রাধিক হেক্টর আয়তনের এ আবাদি বিলে দুই দশক আগে থেকেই বসানো হয়েছে দুটি ইটভাটা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত আরো ৮-১০টি ইটভাটার জন্য প্রতি বছর ধনকা বিল থেকে মাটি কেটে নেয় টপসোয়েল লুটকারীদের সঙ্ঘবদ্ধ একাধিক সিন্ডিকেট। গত দুই দশকব্যাপী মাটি কাটার ধকল সইতে না পেরে এ বিলটি এখন প্রায় জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

জালালাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নুরুল আলম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটায় টপসোয়েল কাটার ফলে বিল নিচু হয়ে যাওয়ায় ধানখেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধানের চারা রোপণ করতে না পারায় আমন মৌসুম পিছিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রাসেল রানা বলেন, ‘ধনকা বিলে জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মংচিনু মার্মা ফোন রিসিভ না করায় উপরোক্ত ব্যাপারে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।’