সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ১৪ জুলাই

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক এক নববধুকে (২০) সঙ্ঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণমামলার আটক আসামি
সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণমামলার আটক আসামি |নয়া দিগন্ত

বহুল আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক নববিবাহিত এক তরুণীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় আগামী ১৪ জুলাই ঘোষণা করবেন আদালত।

বুধবার (৮ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান, বুধবার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এরপর আদালত আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার আট আসামি হলেন— তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা ঘটনার সময় আওয়ামী লীগ অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকারের সমর্থনপুষ্ট এমসি কলেজ ও টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— নির্যাতিত তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক ও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বাদীর কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য নিয়ে আদালতে আলোচনা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক এক নববধুকে (২০) সঙ্ঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর তার স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দু’জনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তীব্র আন্দোলনের মুখে তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও র‌্যাব। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। গ্রেফতারের পর আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

এই মামলায় ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।