পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তানরা প্রশাসকের চেয়েও উঁচু আসনে বসবে, আশা ডনের

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ঈদের উপহারের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ঈদের উপহারের চেক হস্তান্তর রংপুর সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ঈদের উপহারের চেক হস্তান্তর রংপুর সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন |নয়া দিগন্ত

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তান যখন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের চেয়েও অনেক উঁচু আসনে বসবে তখন তার শ্রম সার্থক হবে বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ঈদের উপহারের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমি আপনাদের প্রত্যেকের সহযোগিতা পেয়েছি। রংপুর শহরের মানুষরাই বলছেন রংপুর শহর আগের চেয়ে অনেকাংশে পরিবর্তন হয়েছে। আমার এ সিটি কপরোরেশনের প্রতি মানুষের যে একটা নতুন ধারণা এসেছে, এ ধারণাটি তৈরি করার পিছনের কারিগর হচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আপনাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই এবং আপনাদের এ কষ্টের কারণেই আজকে রংপুর সিটি করপোরেশনের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও উজ্জ্বল হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের রংপুর সিটি করপোরেশনের এবং বর্তমান সরকারের যতটুকু সামর্থ্য আছে সবটুকু সামর্থ্য নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। এর পাশাপাশি আপনারা শুধু একটু দায়িত্ব সহকারে আপনাদের উপরে যে গুরুদায়িত্বটি অর্পিত আছে সে দায়িত্বটি পালন করবেন এবং রংপুর নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে রংপুরবাসীকে উপহার দিবেন। সেই আস্থা ও বিশ্বাস আপনাদের ওপর আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা যখন রাতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন, আমাদের অনেক বোনেরা তাদের ছোট সন্তানকে কোলে নিয়েও এ গুরুতর কাজটি কিন্তু সম্পাদন করে থাকেন। অনেকে আছে রাস্তার পাশে তার সন্তানটিকে কোনো একটা জায়গায় বসিয়ে রেখে এ পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো করেন। এটি আসলে বাস্তবতা। এটি আমাদের কষ্ট লাগে। এটি আমাদের খারাপ লাগে। কিন্তু এ খারাপ লাগা বা এ কষ্ট পাওয়ার পরেও আপনাদেরকে এ সন্তানটিকে, আমাদের এ সন্তানটিকে মানুষ করতে হবে। তাকে প্রকৃত অর্থে মানুষের মতন মানুষ করতে হবে। তাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।’

সিটি প্রশাসক বলেন, ‘আপনারা আজকে এত কষ্ট করে এ পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন শুধু এতটুকুর মধ্যেই আপনাদেরকে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আপনাদের যে সন্তান আছে, প্রত্যেকটি সন্তানকে আপনারা স্কুলে পাঠাবেন। তাদেরকে বই পড়াতে অভ্যস্ত করবেন। সে সন্তানটিকে যদি আপনি একটু কষ্ট করে স্কুলে পাঠান, কিছু সময় যদি সে লেখাপড়া করে, আপনারা দেখবেন যে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আপনাদের এ কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে একদিন অনেক বড় কিছু হবে।’

ডন বলেন, ‘আমি দোয়া করি এবং প্রত্যাশা করি আপনাদের এ সন্তানরা যেদিন আমার চেয়েও বড় মানুষ হবে সেদিন আমি মনে করব যে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছি। আমার নগরের যে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ভাই ও বোনেরা আছে, তাদের সন্তানরা আজকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের চেয়েও অনেক উঁচু আসনে বসেছেন। আমি সেদিন গর্ব করব। হয়তো সেদিন বেঁচে থাকতে পারি, নাও থাকতে পারি। কিন্তু এটি কিন্তু আমার গর্বের কারণ হয়ে থাকবে। তাই আপনারা আপনাদের উপরে অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আপনাদের পরিবারকে একটু গুছিয়ে রাখবেন। পাশাপাশি আপনাদের সন্তানকে লেখাপড়া করাবেন, স্কুলে ভর্তি করাবেন।’

পরে তিনি ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে পাঁচ হাজার করে মোট ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঈদ উপহারের চেক দেন।

ঈদে এ টাকা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: রুবেল রানা, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা: নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাঈম হাসান খান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বুলবুল হোসেন ও হাসনা বানু।