গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো বীজ তলার চারা হলদে হয়ে যাওয়া, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং কোথাও কোথাও চারা দুর্বল হয়ে পড়ার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষকের বীজতলায় ইতোমধ্যে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও পুরো বীজত লাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা জানায়, দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় এবং রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বীজতলার চারাগুলো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। অনেক জায়গায় জমিতে পানি জমে থাকায় শীতের প্রভাব আরো বেড়েছে। বীজতলা নষ্ট হলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত খরচ ও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বোনারপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ধার-দেনা করে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু এই শীত ও কুয়াশায় চারা টিকছে না। প্রতিদিন মাঠে এসে দেখি ক্ষতি বাড়ছে। নতুন করে বীজতলা বানানোর সামর্থ্য আমাদের নেই।’
কচুয়া আরেক কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পলিথিন ও খড় দিয়ে ঢেকে রাখছি, তবুও কাজে আসছে না। সময় মতো চারা না পেলে বোরো আবাদই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’
ঘুড়িদহ ইউনিয়নের কৃষক মফুজল মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় তার বোরো ধানের বীজ তলার চারা হলদে হয়ে গেছে। বীজ তলাই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে পরে জমিতে ধান রোপণ করাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি।’
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাঘাটা উপজেলায় প্রায় ১৮৫০হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৯২৭হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা রোপণ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা বেশি। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকদের বীজতলা নিয়ে তেমন কোনো হয়রানিতে পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আসাদুজ্জামান নয়া দিগন্তকে জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। তবে ক্ষতির আশঙ্কা কম। বীজতলার সুরক্ষায় বিকেলে হালকা সেচ, সকালে পানি বের করে দেয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা এবং প্রয়োজন হলে পলিথিন ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে বীজতলার ক্ষতিরোধে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।



