আশাশুনিতে পাউবো’র বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

‘রোববার সকালে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধের গোড়ায় ধস দেখা দেয়। পরে কিছুটা এলাকাজুড়ে বাঁধের গোড়ার মাটি নদীতে ধসে পড়ে।’

মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা

Location :

Satkhira
বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ধস
বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ধস |নয়া দিগন্ত

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবসিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের টানে সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২-এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধে হঠাৎ ধস দেখা দেয়। এতে করে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি ধসে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে ভাঙন ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়ায় ওই এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে পাউবো কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁধের ভাঙন মেরামতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

স্থানীয় নুরুল আফসার মোর্তজা জানান, খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের টানে রোববার সকালের দিকে কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে পাউবোর বেড়িবাঁধের গোড়ায় হঠাৎ করে ধস দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে বাঁধের গোড়া থেকে প্রায় ৫০ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে নদীগর্ভে চলে যায়। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাথে সাথে ভাঙনের বিষয়টি পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস জানান, বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। প্রতি মুহূর্তে মাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার না করলে লোকালয় রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রহমান তাযকিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘৭/২ পোল্ডারের আওতাধীন কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে বেড়িবাঁধের বাইরে একটি মাটির ঘর ছিল। রোববার সকালে হঠাৎ করে ওই ঘরের পাশে বেড়িবাঁধের গোড়ায় ধস দেখা দেয়। পরে কিছুটা এলাকাজুড়ে বাঁধের গোড়ার মাটি নদীতে ধসে পড়ে। বিষয়টি জানার সাথে সাথে আমার অফিসারদের ঘটনাস্থলে পাঠাই। তারা ভাঙন প্রতিরোধে সেখানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।’