নোয়াখালী সদর উপজেলার আলোচিত তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো: সৌরভ (২৭)।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক বসে। শালিসে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব ও ওয়াসিমও উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারভুক্ত আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আসামি সাজু, সৌরভ ও সুলতান গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো: বরুত উল্যাহ রাসেদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।’
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো: শামসুদ্দিন।



