বিয়ের কারণে তাদের বাকি জীবন একসাথে চলার কথা ছিল। স্বাভাবিকভাবে জীবন চললে মৃত্যুর পর হয়ত পাশাপাশি তাদের দাফন হতো। কিন্তু রামপাল দুর্ঘটনা নবদম্পত্তিকে আলাদা করে দিলো। নববধু মারজিয়া আক্তার মিতুর দাফন হলো খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে। আর স্বামী আহাদুর রহমান ছাব্বির চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বাগরেহাটের মোংলা উপজলোর শলোবুনয়িা গ্রামে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এর মধ্যে নববধু মিতুসহ তিনজনের লাশ কয়রার নাকশা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সেখানেই তাদেরকে দাফন করা হয়। মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ খুলনার কয়রার নাকশা গ্রামের মারজিয়া আক্তার মিতু, বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশে মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নাকশা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা খুলনায় এই প্রথম। যেখানে উৎসবের আনন্দ থাকার কথা সেখানে শোকে স্তব্ধ মানুষ। মিতুর বাবা আব্দুস সালাম মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন। এলাকার মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাদের জন্য মানুষ দোয়া করছেন।
গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সাথে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের সাব্বিরের।
বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
এদিকে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফেরাত কামনা এবং ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।



