কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বানিয়ার ভিটা গ্রামে তিন সন্তানের জননী মহিমা খাতুনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বামী শহিদুল ইসলাম বাবলু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত গৃহবধূ মহিমা খাতুন ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিগদাড়ীর পাড় এলাকার বানিয়ার ভিটা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বাবলুর স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রী প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঘরের ভেতরে মহিমা খাতুনের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দৃশ্যমান কোনো বিরোধ ছিল না। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজে রান্নার কাজ করতেন। সংসারও স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বলে জানান স্থানীয়রা। প্রায় এক মাস আগে তারা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন।
স্থানীয়দের একটি অংশ ধারণা করছেন, এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাদের মতে, নিহতের স্বামী বাবলু এই ঘটনার সাথে জড়িত নাও থাকতে পারেন। এমনকি কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ঘটনার সময় বাবলুকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে বা তার কোনো ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসাথে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার মহিমা খাতুনের স্বামী বাবলুকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’



