নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় এক গৃহকর্মীর (৩০) মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ৬ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নারী। গত ১৭ এপ্রিল সকালে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার স্বামী মোশাররফ হোসেন একজন রাজমিস্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পাঁচকিপ্টা গ্রামে। তারা বর্তমানে বন্দরে মদনপুর এলাকায় মো: বাবুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি পাশের কয়েকটি বাসায় বুয়ার কাজ করেন। কিছুদিন আগে বাড়িওয়ালার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন তিনি।
গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাড়িওয়ালা বাবুল মিয়া ফোন করে তাকে তাড়াতাড়ি কাজে আসতে বলেন। তিনি ওই সময় বাসায় গিয়ে দেখেন বাবুল মিয়া একা বসে আছেন। তখন বাসায় কেউ ছিল না। তিনি রান্না ঘরে গিয়ে কাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া তাকে ডেকে রুমের ভেতর নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর এ ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় বাবুল মিয়া। পরে এ ঘটনা বাবুলের স্ত্রী রোজিনাকে জানিয়ে তিনি বিচার দাবি করেন। কিন্তু উল্টো বাড়িওয়ালার স্ত্রী রোজিনা তাকে নানা রকম হুমকি দেয়।
এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে রোজিনা ও তার স্বামী তার মাথার চুল কেটে দেয়। এমনকি এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্বামীকে হত্যার ভয় দেখায় তারা। উপায় না দেখে তিনি স্থানীয়দের কাছে বিচার দাবি করেন। পরবর্তীতে বিচার না পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুল ও তার স্ত্রী রোজিনার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাদীর অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্তের জন্য ধামগড় ফাঁড়ির অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।



