বিয়ানীবাজারে বকেয়া টাকা চাওয়ায় ক্রেতার ঘুষিতে ব্যবসায়ী নিহত

নিহতের বড় ভাই সেবুল আহমদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাই এমনিতেই অসুস্থ ছিলেন। তার ছোট ছোট পাঁচটি সন্তান রয়েছে। ভাই তো চলে গেলেন, এখন এ পিতৃহীন শিশুগুলোকে আমি কীভাবে মানুষ করব? আমি প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শাহীনুলের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা

Location :

Sylhet
নিহত ব্যবসায়ী আলী হোসেন
নিহত ব্যবসায়ী আলী হোসেন |নয়া দিগন্ত

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় মাত্র চার লিটার ডিজেলের বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহীনুল মিয়া (২৭) নামে ক্রেতার ঘুষিতে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই বাজারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত আলী হোসেন বিবিরাই গ্রামের নাজির উদ্দিনের তৃতীয় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। তিনি বিবিরাই বাজারে তার ভাই সেবুল আহমদের সাথে যৌথভাবে উজ্জ্বল স্টোর নামের একটি দোকান পরিচালনা করতেন। তার পরিবারে দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রয়েছে।

অভিযুক্ত শাহীনুল মিয়া একই গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে এবং পেশায় ট্রাক্টর চালক। ঘটনার পর থেকেই তিনি সপরিবারে পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে অভিযুক্ত শাহীনুল মিয়া তার ট্রাক্টরের জন্য ডিজেল কিনতে উজ্জ্বল স্টোরে যান। এ সময় ব্যবসায়ী আলী হোসেন তার কাছে আগে বাকি নেয়া চার লিটার ডিজেলের টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং দু’জনকে দুই দিকে সরিয়ে দেন।

কিছুক্ষণ পর শাহীনুল মিয়া পুনরায় ওই দোকানে ফিরে আসেন এবং আলী হোসেনের সাথে আবারো তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তিনি আলী হোসেনের নাকে সজোরে ঘুষি মেরে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। ঘুষির আঘাতে আলী হোসেনের নাক দিয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশায় তোলার পরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছে।

নিহতের বৃদ্ধ পিতা নাজির উদ্দিন এ বয়সে সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

নিহতের বড় ভাই সেবুল আহমদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাই এমনিতেই অসুস্থ ছিলেন। তার ছোট ছোট পাঁচটি সন্তান রয়েছে। ভাই তো চলে গেলেন, এখন এ পিতৃহীন শিশুগুলোকে আমি কীভাবে মানুষ করব? আমি প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শাহীনুলের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিয়ানীবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: ছবেদ আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত শাহীনুল মিয়াকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রেখেছে।