ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মো: ফোরকান মিয়া (২৯) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ফোরকানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে রাতেই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত ফোরকান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে। তিনি কাতারপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফেরার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করান।
নিহতের বড় ভাই মো: ইমন মিয়া জানান, তার ভাইকে গত ১৪ আগস্ট ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভর্তির মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। ইমনের অভিযোগ, ফোরকানকে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন মারধর করে হত্যা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কেন্দ্র থেকে ফোন করে ফোরকান অসুস্থ বলে জানানো হয় ও তাকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরে নিরাময় কেন্দ্রে যান। সেখানে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী গাড়িতে ফোরকানের লাশ দেখতে পান। কেন্দ্রের কার্যালয়ে বাইরে থেকে তালা দেয়া ছিল ও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তায় লাশ হাসপাতালে নেয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভাইকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা সন্দেহ করছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। প্রয়াসের পরিচালক ইকরামুল হক বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ফোরকান বাথরুমে পড়ে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।’
তাকে মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ফোরকানের মৃত্যুর পর বুধবার দুপুরে ওই কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন প্রায় ৩০ জন মাদকাসক্ত আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা কয়েকজন জানালা দিয়ে পাশের ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান। এ সময় কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফোরকানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



