মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

৬০০ শয্যায় উন্নীত হবে ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল : চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কট থাকবে না

‘ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি সুখবর দিচ্ছি। ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি শীঘ্রই ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ ঘোষণা দিয়েছে।’

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও

Location :

Thakurgaon
ঠাকুরগাঁও হাসপাতালের হলরুমে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ঠাকুরগাঁও হাসপাতালের হলরুমে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি সুখবর দিচ্ছি। ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি শীঘ্রই ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ ঘোষণা দিয়েছে। ফলে এ এলাকার রোগীরা আরো সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। বর্তমানে এই হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন ৬শ’র বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। তাদের খাবারের বরাদ্দও ২৫০ জনেরই। এখানে যে পরিমাণ ডাক্তার ও অন্যান্য জনবল ঘাটতি রয়েছে, তা যেন দ্রুত পূরণ করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় হাসপাতালের হলরুমে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দেয়া সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা করেছি। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। ৬০০ শয্যা হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করব।’

হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এখানে কিছু সমস্যাও বিদ্যমান। সেগুলোর মধ্যে এখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ রোগী ভর্তি হয়, ফলে এত বেশি রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এক্ষেত্রে আজও প্রায় ৬৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

অন্যদিকে বর্তমানে ৮৪ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন। ফলে এত বেশি সংখ্যক রোগীকে সেবা দেয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এখানে প্রায় ৩৩ জন মেডিক্যাল অফিসার ঘাটতি রয়েছে। এখানে আরো একটি বড় সমস্যা হলো মেডিক্যাল বর্জ্য অপসারণ করা। এখানে এটি অপসারণের কোনো মেশিন ছিল না, আমি জিজ্ঞেস করেছি এটির দাম কত? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এটির দাম প্রায় ৮-৯ লাখ টাকার মতো; আমি বলেছি এই মেশিনটি আমি ২-১ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করে দেবো।

হাসপাতালের বিভিন্ন জরুরি জিনিস প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি যে দরকার, সেটা হলো আপনাদের সকলের সহযোগিতা। এখানে আরো একটি সমস্যা হলো গরু-ছাগল ঘোরাঘুরি করে। এ কারণে আমরা ইতোমধ্যে ৩০ আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে একটি আধুনিক হাসপাতাল হয়। আমাদের আইসিইউ নেই, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, এমআরআই মেশিন নেই— এই জিনিসগুলো আদায় করার চেষ্টা করব। আমরা এখানে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আসতে চাই। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কাজও খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল, সিভিল সার্জন ডা. মো: আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।