নগরকান্দায় ফসলি জমির মাটি কাটায় জরিমানার পরও থামছে না দৌরাত্ম্য

জরিমানা দিয়ে ছাড় পাওয়ার পরই পুনরায় শুরু হয়েছে মাটি কাটা ও বিক্রির কার্যক্রম।

কাজী আফতাব হোসেন, নগরকান্দা (ফরিদপুর)

Location :

Faridpur
মাটি কাটার মেশিন
মাটি কাটার মেশিন |নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও থামছে না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য।

উপজেলার তালমা ইউনিয়নের সন্তোষী গ্রামে প্রকাশ্যে দিন-রাত মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানা দিয়ে ছাড় পাওয়ার পরই পুনরায় শুরু হয়েছে মাটি কাটা ও বিক্রির কার্যক্রম।

অভিযোগ রয়েছে, মাটি ব্যবসায়ী মারুফ ও জাকির জমির মালিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে এক রাতের মধ্যেই ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছেন। এতে আবাদযোগ্য জমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, মোটা অঙ্কের টাকার লোভে জমির মালিকরা রাজি হলেও এতে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাটি ব্যবসায়ী মারুফ বলেন, ‘জরিমানার টাকা এক রাতেই উঠে আসে। আপনারা যত পারেন লেখেন।’

তার এমন মন্তব্যে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে মাটি বোঝাই ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ সড়কে চলাচল করায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, কাটা মাটি উপজেলার ব্যক্তি মালিকানায়সহ বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। পুনরায় মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আবারো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ফসলি জমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা কঠিন হবে।