হরিপুরে রহস্যজনক নীরবতায় পাহাড় কাটার মহোৎসব

পরিবেশ অধিদফতর সিলেট থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর টিলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা

Location :

Sylhet
হরিপুরে পাহাড় কাটার মহোৎসব
হরিপুরে পাহাড় কাটার মহোৎসব |নয়া দিগন্ত

সিলেটের জৈন্তাপুরে কোনোভাবেই থামছে না পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও থামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পাঁচ থেকে ছয়জনের সংঘবদ্ধ চক্র বেপরোয়াভাবে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় কেটে ধ্বংস করছে। দিন-রাত সমান তালে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই ফতেপুর ইউনিয়নে এ ধ্বংসযজ্ঞ বেপরোয়া আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে এসব পাহাড় কাটার মহোৎসব চালিয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদফতরের রহস্যজনক নীরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটারোধে প্রশাসনকে অবগত করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি আজও, ফলে দিন দিন টিলা ও পাহাড় কাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরাও।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিকারখাঁ মাঝেরঠুল গ্রামে মরহুম আবুল হাসনাত (মুহুরী) ছেলে মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, একি এলাকার মুছিম আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী, উৎলারপার এলাকার ইমাম রাজার ছেলে বাবুল আহমদের মালিকানাধীন টিলাসহ বাগেরখাল এলাকায় বেশ কয়েকটি টিলা কাটা হচ্ছে বিরতিহীনভাবে। তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অপরাধীরা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি ডাম্পার ট্রাকযোগে টিলার মাটিগুলো অন্যত্র জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামের রাস্তাগুলো জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব টিলা ধংস করার ফলে পরিবেশের বিপর্যয় আশঙ্কা করছেন টিলার আশেপাশে বসবাসরত পরিবারগুলো।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘পাহাড় কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা উন্নয়ন চাই কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করে উন্নয়ন চাই না। প্রশাসনের উদাসীনতায় এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আমরা আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হারাবো। প্রশাসন পাহাড়ের মালিকের ওপর মামলা করে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করতে হবে। আমি প্রায় সময় সিলেটে পাহাড় টিলা কাটা নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন পাই। প্রশাসন এ সকল প্রতিবেদন দেখেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সিলেটে অনেক অংশেই পাহাড় টিলা কমে গেছে। এভাবে যদি পাহাড় টিলা কাটতে থাকলে দেশে ভূ-কম্পন আরো বাড়তে পারে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর দু’টি অভিযান পরিচালনা করেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে পরিবেশ অধিদফতর সিলেটের নিকট আমরা একটি প্রতিবিদন পাঠিয়েছি। এখান থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর টিলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।