নরসিংদীর মাধবদীতে কাঠালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলামিনকে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাকের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৬ সেপ্টোম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে মারাত্মক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছে, গভীর রাতে একজন নেতার বাড়িতে ঢুকে এভাবে কোপানো কখনোই কাম্য নয়।
ভুক্তভোগী আলামিনের অভিযোগ, তিনি ঢাকায় ডাক্তার দেখিয়ে রাত ১২ টার দিকে তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফেরেন। রাতে সাড়ে বারোটার দিকে হঠাৎ করেই কাঠালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাকের ভাতিজা জোবায়ের ও কবির চাইনিজ কুড়াল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি বলেন, ‘চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আমার মাথায় কোপ দিলে আমি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করি। এতে আমার হাতে কোপ লাগে, যেখানে ১৮টি সেলাই দিতে হয়েছে। পরে তারা আমাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আমার ল্যাপটপ নিয়ে যায়।’
কাঠালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সাথে পূর্বের কোনো শত্রুতা ছিল কিনা জানতে চাইলে আলামিন বলেন, রোববার সকালে আমার এক ছোট ভাইকে ইসহাক মারধর করে। এ ঘটনা নিয়ে আমি ফেসবুকে পোস্ট করি। ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর সে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে আমার ওপর হামলা চালায়।
এদিকে আলামিনকে আহত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে বিএনপি নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা নানা প্রতিক্রিয়া জানন। দল ক্ষমতায় থাকার পরেও এভাবে হামলা শিকার হলেন ছাত্রদল নেতা যেটি কারো কাছে কাম্য ছিল না বলে মন্তব্যকারীরা মতামত দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইসছাক বলেন, ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে তার ভাতিজা জোবায়েরের সাথে দ্বন্দ্ব হয় আলামিনের। সে আমাকে কয়েক দফা গালাগালি করেছে মোবাইলে ও ফেইসবুকে।
পরে রাতে জোবায়ের আলামিনের বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে তাদের বাড়িতে যায়। পরে এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র চলছে, এটা ষড়যন্ত্রের একটা অংশ হতে পারে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমি রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ দাখিল করলে মামলা হবে।



