তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ও কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। উর্বর মাঠি ও অল্প খরচেই সূর্যমুখী চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এ চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন (ভোলা)

Location :

Bhola
তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন
তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন |নয়া দিগন্ত

সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল। এ তেল পুষ্ঠিগুণে অনন্য হওয়ায় ভোজ্যতেলের চাহিদা মেঠাতে ভোলার তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর চাষ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি।

ভোলার তজুমুদ্দনের কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ না করলেও পরীক্ষামূলকভাবে অনেক কৃষকেই এ বছর সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার মাঝে যেন শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী ফুল। আর কিছুদিন পরেই ফসল ঘরে তুলবেন চাষিরা। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে লাভবান হওয়ার আশা দেখছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ও কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। উর্বর মাঠি ও অল্প খরচেই সূর্যমুখী চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এ চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ বছর প্রজেক্টের আওতায় পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি এবং তেল প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫টি প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় ৮৫ হেক্টর একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৮২ হেক্টর, যা লক্ষমাত্রার চেয়ে তিন হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে সাধারণত প্রজাপতি জাতের সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফসল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আড়ালিয়া গ্রামের চাষি মেঘনাথ দাস বলেন, ‘আমি গত তিন বছর ধরে সূর্যমুখীর চাষ করি। বিগত বছরগুলোতে যে পরিমাণ ফসল পেয়েছি তাতে নিজেদের তেল ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রিও করেছি। কম খরচে অন্য ফসলের চেয়ে ভালো ফলন হওয়ায় এ বছর কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ করি। জমি সেচ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আট থেকে নয় মণ করে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কয়েকদিন পরে ফসল ঘরে তুলবো। আশা করি এতে ভালো লাভবান হওয়া যাবে।’

এদিকে মেঘনাথ দাসের চাষাবাদ দেখে একই গ্রামের ভাষ্কর চন্দ্র মজুমদার, জকির হোসেন, শ্যামল চন্দ্র দাসসহ অনেকেই সূর্যমুখী চাষ করেছে।

তারা জানান, আমরা এক সময় সরিষা চাষাবাদ করলেও গত কয়েক বছর ধরে সূর্যমুখী চাষাবদ করছি। কারণ সরিষার চাষের চেয়ে সূর্য়মুখী চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: ইব্রাহিম বলেন, ‘সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল, যা আমাদের দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে আমাদের তেলের চাহিদা পূরণ করতে প্রচুর পরিমাণ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদি আমরা সূর্যমুখী চাষ আরো বাড়াতে পারি তাহলে বিদেশি নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সূর্যমুখী শুধু লাভজনকই নয়, এটি আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’