নদীগর্ভে বিলীন অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় রাস্তা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

দ্রুত সংস্কারের দাবি

আমাদের গ্রামের একমাত্র প্রধান রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। গ্রামের প্রায় শতাধিত অটোচালক অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাস্তা নষ্ট হওয়ায় আজ তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Astagram
নদীগর্ভে বিলীন সড়ক, অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন স্থানীয়রা
নদীগর্ভে বিলীন সড়ক, অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন স্থানীয়রা |নয়া দিগন্ত

নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় সড়কের প্রায় ৯০ শতাংশ। এর ফলে সড়কটিতে বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সড়কের নোয়াগাঁও এলাকায় একপাশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এপার-ওপারের যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের ভাঙনের পর অবশিষ্ট খাড়া ঢাল বেয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। জরুরি রোগী ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। পথটি অত্যন্ত ঢালু ও পিচ্ছিল হওয়ায় সামান্য অসাবধানতায় পা পিছলে নিচে পড়ে মাঝে মধ্যেই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

এমন দুর্বিষহ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নোয়াগাঁও, লাউড়া, নাজিরপুর, বাঘাইয়া গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করত।

এই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় হাট-বাজার, উপজেলা সদর, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতে যাতায়াতের জন্য প্রধানত এই সড়কটির ওপরই নির্ভর করে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে আঞ্চলিক সাবমার্সিবল রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে গেলে উপজেলার অধিকাংশ মানুষই চাতলপাড় হয়ে নাসিরনগর দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কটি হঠাৎ ভেঙে যাওয়ায় সমগ্র এলাকার সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রী ও এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে রাস্তার ঢাল ঘেঁষে পশ্চিম দিক দিয়ে একটি অস্থায়ী পার্শ্ব রাস্তা (বিকল্প পথ) তৈরি করে দিলে আপাতত জনগণের এই সীমাহীন দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, একমাস ধরে উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে চাতলপাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চোখের সামনে সড়কটির অনেকটা অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে গেলেও এর প্রতিকার হচ্ছে না। সড়কটির দেড় কিলোমিটার অংশজুড়ে অনেক জায়গা দূর থেকে সুঁচের মতো মনে হয়।

একাধিক নারী কর্মজীবী জানান, প্রতিদিন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে জুতা হাতে নিয়ে খাড়া ঢাল পাড়ি দিয়ে আমাদের যেতে হয়। একটু ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আমাদের গ্রামের একমাত্র প্রধান রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। গ্রামের প্রায় শতাধিত অটোচালক অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাস্তা নষ্ট হওয়ায় আজ তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, বিকল্প রাস্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা উপজেলা সদরে যেতে পারছেন না। রাস্তার পাশাপাশি নদী ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিও বিলীন হয়ে গেছে। আমরা অবিলম্বে এই রাস্তা মেরামত ও নদী ভাঙন রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার দ্বারা বালু ভরাটের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে।