লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে কাস্টমস নিয়ন্ত্রিত তিন কিলোমিটার এলাকার অন্তত দুই কিলোমিটার বাইরে ভারত ও ভুটানের পাথরবোঝাই ট্রাক খালাস করা হচ্ছে। এসব ট্রাক খালাস করতে অনেক সময় রাতও হয়ে যায়। দেখা গেছে লালমনিরহাট পাটগ্রাম বুড়িমারী আঞ্চলিক মহসড়কের দু’পাশে উফরমারা ঘুন্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার, দক্ষিণে মেডিক্যাল পার হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার এবং উত্তরে ধরলা সেতু পার হয়ে অন্তত এক কিলোমিটার বাইরে গিয়ে পাথর খালাস করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা এসব ট্রাক ব্যবহার করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অস্থির করতে অবৈধ অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী প্রবেশ করানো হতে পারে। নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাস্টমস এরিয়ার বাইরে আমদানীকৃত পাথরবোঝাই ট্রাক অবস্থান করা স্বাভাবিক নয়।
যথাযথ তল্লাশি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ট্রাক অবস্থান করলে তা বন্দরের বন্ডেড এরিয়ার মধ্যে থাকা উচিত, এর বাইরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরী করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরে স্ক্যানার না থাকা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি থাকায় এই নিরাপত্তা ঝুঁকি আরো বেড়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাথরের ট্রাকের আড়ালে কি আসছে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ফলে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা শঙ্কা বোধ করছি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও এর আগে কোটি টাকা মুল্যের ভারতীয় ও ভুটানের ট্রাকে শিশা, মাদক, কসমেটিকস, ওষুধ, কাপড়সহ বিপুল পরিমান পণ্য সামগ্রী একাধিকবার উদ্ধার হয়েছে।
সরেজমিনে বুড়িমারী স্থলবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, কাস্টমসের নির্ধারিত সীমানার বাইরে বুড়িমারী ঘুন্টি এলাকা মেডিক্যাল এলাকা শ্রীরামপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড ইসলামপুর পর্যন্ত কয়েকশ পাথর ক্রাসিক সাইডে ৩০ থেকে ৪০টি কুড়ি থেকে চব্বিশ চাকার ভারতীয় পাথরবোঝাই ট্রাক আনলোডের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এসব ট্রাক অধিকাংশ সময়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারী ছাড়াই আনলোড করা হচ্ছে। কখনো আনলোড করতে রাতও হয়ে যায়।
এ বিষয়ে বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত নজরদারী ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে কাস্টমস এলাকার বাইরে ভারতীয় পাথরবোঝাই ট্রাক না নেয়ার জন্য বলা হলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। তারা লেবার সঙ্কটসহ একাধিক অসুবিধার অজুহাতে আনলোড করতে রাতও করে ফেলছেন।’
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, আমি নতুন এসেছি বিষয়টি আমার জানা নেই। কাস্টমস এরিয়ার বাইরে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো রকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।’
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বন্দরে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ নজরদারী আরো জোরদার করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে।



