পৌষ সংক্রান্তিতে শ্রীমঙ্গলে বসেছে মাছের মেলা

মঙ্গলবার সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গল শহরের মাছবাজারে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিকেলের পর বেচাকেনা আরো জমে উঠে। ক্রেতারা পছন্দের মাছ কিনতে দরদাম করতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

এম এ রকিব, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

Location :

Sreemangal
শ্রীমঙ্গলে মাছের মেলা
শ্রীমঙ্গলে মাছের মেলা |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে বসেছে নানা প্রজাতির মাছের মেলা। শহরের নতুনবাজারে আয়োজিত এই মেলায় হাওর ও নদীর মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ফিশারিজের মাছের সমারোহ দেখা গেছে। বড় আকারের মাছ দেখতে ও কিনতে মাছপ্রেমীদের ভিড়ে উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো মেলাজুড়ে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গল শহরের মাছবাজারে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিকেলের পর বেচাকেনা আরো জমে উঠে। ক্রেতারা পছন্দের মাছ কিনতে দরদাম করতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন বিল-হাওর ও নদী থেকে ধরা বোয়াল, চিতল, আইড়, রুই, কাতলাসহ বড় বড় মাছ মেলায় স্থান পেয়েছে। অনেক বিক্রেতা জীবিত মাছ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সযত্নে সংরক্ষণ করছেন।

উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা হাজীপুরের মাছ ব্যবসায়ী হাছান আহমেদ নয়া দিগন্তকে জানান, তার কাছে থাকা সবচেয়ে বড় জীবিত বোয়াল মাছটির ওজন প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি। মাছটি তিনি হাইল হাওর থেকে সংগ্রহ করেছেন। মাছটির দাম চাওয়া হচ্ছে তিন হাজার টাকা কেজি। তবে দুই হাজার ৬০০ টাকা পেলে তিনি বিক্রি করবেন বলে জানান।

শহরতলীর পশ্চিম ভাড়াউড়ার এলাকার মাছ ব্যবসায়ী সফর আহমেদ বলেন, ‘ভোরে হাকালুকি হাওর থেকে তাজা মাছ নিয়ে এসেছি। দুপুর পর্যন্ত বেচাকেনা কম থাকলেও বিকেলের পর ক্রেতাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তার কাছে থাকা সবচেয়ে বড় কাতলা মাছটির ওজন ১৪ কেজি, কেজি প্রতি দাম চাচ্ছেন এক হাজার ২০০ টাকা।’

আরেক মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক জানান, তিনি ভৈরব থেকে মেঘনা নদীর বোয়াল, আইড়, রুই ও চিতল মাছ এনেছেন। তার কাছে থাকা সবচেয়ে বড় চিতল মাছটির ওজন প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কেজি, কেজি প্রতি দাম দুই হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।’

দর্শনার্থীরা জানান, এবছর মেলায় বড় মাছের সরবরাহ গতবারের তুলনায় কম এবং দামও কিছুটা বেশি। তিনি বড় মাছের দামের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের দাবি জানান।

মাছ ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মেলায় পাঁচ থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। নদী ও হাওরের মাছের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও এসব মাছের স্বাদ অতুলনীয়।’

মাছবাজার সংলগ্ন ব্যবসায়ী ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আক্তার হোসেন বলেন, ‘প্রবীণদের কাছ থেকে জেনেছি শ্রীমঙ্গলের এই মাছের মেলার বয়স প্রায় ৭১ বছর। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে। মেলায় ক্রেতার তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে।’

আয়োজকরা জানান, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা ও সুরমা নদী, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর হাইল হাওর ছাড়াও ভৈরব থেকে মাছ সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। দিনব্যাপী এই মাছের মেলা গভীর পর্যন্ত বেচা-কেনা চলবে। এতে বিপুল পরিমাণ মাছ কেনা-বেচার সম্ভাবনা রয়েছে। মাছের মেলাটি শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি এখন শ্রীমঙ্গলের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে