কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে একটি কোকেন ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণে নয়জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নারিঞ্জো বিভাগে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকাটি কোকেন উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং এখানে আদিবাসী ‘আওয়া’ সম্প্রদায়ের বসবাস। একইসাথে অঞ্চলটিতে বেশ কিছু অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।
নিহতরা সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক-এর একটি বিচ্ছিন্ন অংশ ‘ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর বলিভারিয়ান আর্মি’র হয়ে কাজ করতেন।
পুলিশ কর্নেল জন জাইরো উরিয়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মাদক তৈরির সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিও এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের অসতর্কতার কারণে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ল্যাবে আগুন ধরে যায়।
এই গোষ্ঠীটি ২০১৬ সালে ফার্ক-এর করা ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বামপন্থী সরকারের সাথে তাদের আলোচনা চলছে।
বিস্ফোরণস্থলটি গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় চোরাকারবারিরা মেক্সিকান কার্টেল বা মাদক চক্রগুলোর সহায়তায় এখানে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে।
এদিকে, গত বুধবার ইকুয়েডরের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া কলম্বিয়ার ওপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করে এক ধরনের বাণিজ্যিক যুদ্ধ শুরু করেছেন।
তার অভিযোগ, পেত্রো সরকার সীমান্ত দিয়ে মাদকপাচার বন্ধে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্ট পেত্রোও একই হারে শুল্ক আরোপ করেছেন এবং মাদকবিরোধী অভিযানে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরছেন।
গত এক বছর ধরে মাদকপাচার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছেন পেত্রো। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের।
সূত্র : বাসস



