সিলেটের কানাইঘাটে টাকার দেনা-পাওনা বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাকিল আহমদকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) তাকে কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুরে পুলিশ তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ।
এর আগে, রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ঝাউচর মেঘনাঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার রাতছড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের সাথে বন্ধুত্ব ছিল শাকিলের। তাদের মধ্যে দু’ লাখ টাকার দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩০ নভেম্বর বিকেলে শাকিল নিহত সাইফুলের বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে স্থানীয় দনা বাজারে যায়।
সন্ধ্যার দিকে নিহত সাইফুলের ভাই সুফিয়ান আহমদ দনা বাজার থেকে বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, শাকিল সাইফুলকে মোটরসাইকেলে করে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে।
পরে মোটরসাইকেল চালক শাকিলের বাড়ির সামনে কিছু সময় অপেক্ষা করে সাইফুল ফেরত না আসায় মোটরসাইকেল রেখে শাকিলদের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান নিহত সাইফুলকে বেঁধে মারপিট করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে শাকিল উত্তেজিত হয়ে তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তখন শাকিলের সাথে থাকা অন্যারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুলকে এলোপাতাড়িভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুলকে শাকিলদের বাড়ির পূর্ব পাশের জঙ্গলের ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায় হামলাকারীরা। পরে তাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের হলে র্যাব-৯ আসামিদের শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিলেট ও র্যাব-১১ (নারায়ণগঞ্জ)-এর যৌথ অভিযানে মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও আটক করতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।



