কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়
দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় |নয়া দিগন্ত

নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গায় তার ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি-সাহিত্যিক ও নজরুলপ্রেমীরা শ্রদ্ধা জানান। পরে কবির আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে কার্পাসডাঙ্গার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় মিশন মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিথাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহী কবিই নন, তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার প্রতীক। তার সাহিত্য ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তারা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নজরুল স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর মধ্যে কার্পাসডাঙ্গা অন্যতম, যা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য গর্বের।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আটচালা ঘরটি কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে কবি সপরিবারে একাধিকবার এখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। তৎকালীন নদীয়া কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে অবকাশ যাপন করেন। সে সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাব কার্পাসডাঙ্গাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। শ্রমিক-প্রজা-কৃষক পার্টির পক্ষে বিপ্লবী হেমন্ত কুমার ও মহিম সরকারের আমন্ত্রণেও কবি এখানে এসেছিলেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের মতে, কার্পাসডাঙ্গার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৈরব নদের তীর কবির সাহিত্যচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার কালজয়ী উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা, গল্প পদ্মগোখরো, লিচু চোরসহ বেশ কিছু গান ও কবিতা চুয়াডাঙ্গায় অবস্থানকালেই রচিত হয়।

বর্তমানে হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের উত্তরসূরিরা নিজস্ব উদ্যোগে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি সংরক্ষণ করে আসছেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা এই স্থানটিকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

তিনদিনব্যাপী এ উৎসবকে ঘিরে নজরুলভক্ত ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।