রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী, তোপের মুখে কাজ বন্ধ করলো এলজিইডি

রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা এলজিইডি অফিস। রাস্তা নির্মানে নিয়ম অনুযায়ী ভালো ও মানসম্মত উপাদান দিয়ে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Kuliarchar
রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এলজিইডি’র গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও চাপের মুখে রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর-পিরিজপুর পাকা রাস্তার দক্ষিণ গোবরিয়া (জাব্বা বাড়ী) মোড় হতে পূর্ব গোবরিয়া মাদরাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ পায় চট্টগ্রামের মেসার্স ইউনূস এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বেশ কিছু দিন আগে এ রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করতে থাকলে তা স্থানীয় যুবসমাজের নজরে আসে। কাজের এই প্রকাশ্য অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। তারা কাজে বাধা দেন এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তারা। সাথে সাথে এসব ভিডিও ভাইরাল হয় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার সাহস পেয়েছেন। যা আদৌও কাম্য নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনূস এন্ড ব্রাদার্স কুলিয়ারচরের আরো বেশ কয়েকটি রাস্তার নির্মাণ কাজের টেন্ডার পেয়েছে। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এতদিনেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

জনগণের প্রতিবাদের খবর পেয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি অনিয়মের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একইসাথে ব্যবহৃত নিম্নমানের সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নিয়ে ভালো ও মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করার তাগিদ দেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো: ইউনূস মিয়াকে পাওয়া না যাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা কাজের মানের ব্যাপারে কোনো আপস করব না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যেই সমস্ত নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভালো ও মানসম্মত উপাদান দিয়ে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’