মদনে আইনজীবী হত্যা মামলার জেরে সংঘর্ষ, আহত ৫

মদন থানার ওসি হাসনাত জামানা জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা-ছালাকান্দা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Location :

Madan Upazilla
মদন উপজেলার দেওসহিলা-ছালাকান্দা গ্রামে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
মদন উপজেলার দেওসহিলা-ছালাকান্দা গ্রামে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে |নয়া দিগন্ত

মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নেত্রকোনার মদনে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হাফিজুর রহমান হত্যা মামলার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় নিহত আইনজীবীর পরিবারের গরু ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে প্রতিপক্ষের দুটি চালাঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা-ছালাকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হাফিজুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোতাহার আলম রফিককে প্রধান আসামি করে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। প্রধান আসামি বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। মামলার পর থেকে মোতাহার আলম রফিকের অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।

শনিবার সকালে হাওর থেকে নিহতের চাচাতো ভাই রিগান বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহত মিলন, মৌখিত, সামারুল ও খেলনকে প্রথমে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রতিপক্ষের আহত রিগানকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের চাচাতো ভাই, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কিরণ চৌধুরী বলেন, “চার বছর আগে আমার চাচাতো ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। মামলা এখনো চলমান। এর মধ্যেই তারা বাড়িতে এসে ঘর নির্মাণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা ঘর নির্মাণে বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”

অন্যদিকে মোতাহার আলম রফিক দাবি করেন, “চার বছর ধরে আমরা বাড়িছাড়া। সম্প্রতি বাড়িতে এসে আমাদের লোকজন দুটি ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষ হয়। গরু লুটের অভিযোগ মিথ্যা।”

মদন থানার ওসি হাসনাত জামানা জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা-ছালাকান্দা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।