পদ্মায় ডুবোচরে লঞ্চের ধাক্কায় নিখোঁজ ১

লঞ্চটির ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে আসছিল। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে মাস্টার সামনের কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী

Location :

Rajbari
দৌলতদিয়ায় ডুবোচরে লঞ্চের ধাক্কা
দৌলতদিয়ায় ডুবোচরে লঞ্চের ধাক্কা |নয়া দিগন্ত

পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি ব্ল্যাকবার্ড নামের একটি লঞ্চ ঘাটের কাছে ডুবোচরে ধাক্কা লেগে পাঁচ যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। এ সময় চারজন যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছাকাছি ডুবোচরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনমাস্টার আবদুর রহমান বলেন, পাঁচজন যাত্রী পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ইতোমধ্যে চারজনকে উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে দুজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে যাত্রী বোঝাই করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে লঞ্চ এমভি ব্ল্যাকবার্ড। নদীর বেশির ভাগ অংশ পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাটের বিপরীতে ডুবোচরের সাথে ধাক্কা লাগলে লঞ্চটির পেছনের অংশ ঘুরে যায়।

এ সময় চার থেকে পাঁচজন যাত্রী নদীতে ছিটকে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা লঞ্চের সামনের কাচ ভাঙচুর ও মাস্টারকে মারধর করেন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করে টেনে নৌকায় তোলেন। একজন যাত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩০ মিনিট পর বিকল্প আরেকটি লঞ্চের সাহায্যে ডুবোচর থেকে উদ্ধারের পর লঞ্চটি ঘাটে নোঙর করা হয়।

লঞ্চঘাটে কর্তব্যরত আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক নুরুল আনোয়ার বলেন, দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে থাকা চর বর্ষায় তলিয়ে গেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চরের সাথে লঞ্চের ধাক্কা লাগলে কয়েকজন নদীতে পড়ে যান।

লঞ্চযাত্রী রাজবাড়ীর মো: সবুজ মিয়া বলেন, লঞ্চটির ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে আসছিল। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে মাস্টার সামনের কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। আমার সাথে থাকা তিন যাত্রী পদ্মা নদীতে পড়ে যান। এ সময় চারজনকে উদ্ধার করা হলেও আরো একজন নিখোঁজ রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের টার্মিনাল সুপারভাইজার শিমুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তিনজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার সংবাদ পাই এবং তাদের উদ্ধার করা হয়। কোনো যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন, এমন খবর পাইনি। নিখোঁজ থাকলে অন্য যাত্রীদের কেউ বা তার স্বজনেরা অবগত করতেন বলে মনে করেন তিনি। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত লঞ্চটি ঘাটেই নোঙর করে রাখা হবে।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা লঞ্চের সামনের কিছু অংশ ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া চালককে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। লঞ্চের চালক ও সহকারী নিরাপদে আছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে পরবর্তী আইনিপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী নিখোঁজ নেই বলে জানান তিনি।